বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে সতর্ক করেছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় যৌথ হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে তেহরানকে দুর্বল করে আলোচনায় বাধ্য করা যায়।
মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে গোলাবারুদ মজুদ করছে এবং বোমা ও যুদ্ধবিমান আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য ও দুই কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, টেক্সাস থেকে ইসরায়েলে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হচ্ছে। আগামী মাসে একটি বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ এবং এক দল মেরিন সেনা প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যুক্ত হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও ইরানের অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় আকারের হামলার দিকে ঝুঁকছেন। তিনি ফ্লোরিডার এক সমাবেশে বলেছেন, "আমরা হয়তো আরেকটি ছোট ‘এপিক ফিউরি’ চালাতে পারি" এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালাবেন না বলে জানান।
পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ৮ মাসের এই যুদ্ধে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ৪,৭১০ কোটি ডলার (৪৭.১ বিলিয়ন), যার ৬০%‑এর বেশি ব্যয় বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর হয়েছে।
কাতার-মাধ্যমে শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টা ভেসে গেছে; একটি জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কাতার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়নি, বরং অগ্রহণযোগ্য ধারণা উপস্থাপন করেছে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে তেহরান কোনো নমনীয়তা দেখাবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে পোস্টে সতর্ক করে লিখেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েল-প্ররোচিত যেকোনো সামরিক দুঃসাহসের আন্তর্জাতিক গ্যাস বাজারে বিধ্বংসী প্রভাব পড়বে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ৮৫% ভোট গণনা শেষে ৫৩টি আসনে এগিয়ে, ইরান থেকে আসা অস্তিত্ব সংকটের হুমকি দূর করতে ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করবেন বলে ঘোষণা করেছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটও ইরানে হামলার বিষয়টি সমর্থন করেছেন।





