ডয়চে ভেলে বাংলা জানায়, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দু, খ্রিস্টান ও শিখ সম্প্রদায়ের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের জোর করে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে এবং বাল্যবিয়ে ও ধর্ষণের শিকার করা হচ্ছে।

একটি ঘটনা অনুযায়ী, নেহা নামের কিশোরীকে ৪৫ বছর বয়সী পুরুষের সঙ্গে জোর করে বিয়ে করা হয়; তার স্বামীকে বাল্যবিয়ে অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। নেহার স্বামীর ভাই আদালতে পিস্তল নিয়ে হাজির হন, যা নিরাপত্তা কর্মীরা জব্দ করেন।

সংবাদ সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় এক হাজার সংখ্যালঘু মেয়ে এই ধরনের জোরপূর্বক ধর্মান্তর ও বাল্যবিয়ের শিকার হন। লকডাউনের সময় এই সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই মাসে পাকিস্তানের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

দক্ষিণ সিন্ধের কাশমোরে ১৩ বছর বয়সী সোনিয়া কুমারির অপহরণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর ঘটেছে; তাকে দুই সন্তানের বাবা ৩৬ বছর বয়সী ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে করা হয়েছে। আরেকটি ঘটনা হল করাচির আরজু রাজা, যিনি ১৩ বছর বয়সে নিখোঁজ হয়ে দুই দিন পর ধর্মান্তরিত হয়ে ৪০ বছরের মুসলিমের সঙ্গে বিয়ে হয়েছেন। সিন্ধে বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর, তবে আরজুর বিয়ের কাগজে তাকে ১৯ বছর বয়সী হিসেবে দেখানো হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীরা উল্লেখ করেন, এই অপরাধে ধর্মীয় যাজক, কিছু ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশসহ একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক জড়িত, যা অধিকারকর্মী জিবরান নাসির ‘মাফিয়া’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। পাকিস্তানের ২২ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ০.৩৬% সংখ্যালঘু, যারা প্রায়ই বৈষম্য ও ব্লাসফেমি মোকাবেলা করেন।

উপরের তথ্য ডয়চে ভেলে বাংলা অনুসারে সংগ্রহ করা হয়েছে।