তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনরা তার মরদেহ নিয়ে উত্তরার বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

ঢাকা পোস্টের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার বিকেলে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য তা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজুর রহমান মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন, যেখানে তার খালাতো ভাই জহির হাসান মরদেহ শনাক্ত করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে তাহসিফের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলেও নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া এবং পেট ফোলা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মৃত্যুর আনুষঙ্গিক তথ্যে কিছু ভিন্নতা দেখা গেছে। ঢাকা পোস্ট ও চ্যানেল আই দুপুর সোয়া ২টার দিকে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা জানালেও সারাবাংলা উল্লেখ করেছে বিকেল ৩টার দিকে চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশের মাধ্যমে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। চ্যানেল আই ও চ্যানেল ২৪-এর খবরে জানানো হয়, বাদ আসর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টর গোরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

সারাবাংলা সূত্র থেকে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় এক পরিচিত ব্যক্তির ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তাহসিফ নিখোঁজ ছিলেন। বিমানবাহিনীর ৭৭তম লং কোর্সের এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাকরি ছেড়ে পরবর্তী সময়ে ক্রিকেট বোর্ড, নেত্র নিউজ ও ভার্গো টোব্যাকোতে দায়িত্ব পালন করেন। তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যা দাবি করেছেন এবং দাফন শেষে আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা সম্ভব হবে।