বাংলা ট্রিবিউনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকা ওয়ারী এলাকায় ৯ বছর আগে এক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য মোবারক হোসেন মোহনকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়টি ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, ঢাকা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল‑১-এর বিচারক মুনতাসির আহমেদ দ্বারা শোনানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহিনা আক্তার রায়ের সঙ্গে ৫,০০০ টাকার অর্থদণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন এবং অর্থদণ্ড না পরিশোধ করলে এক মাসের অতিরিক্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড আরোপের কথা উল্লেখ করেন। রায় ঘোষণার আগে মোবারক আদালতে উপস্থিত হন; রায়ের পর বেঞ্চ সহকারী মো. ফোরকান সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, মোবারক ভুক্তভোগীর চাচাতো ননদের জামাই এবং ওয়ারীর ভজহরি সাহা স্ট্রিটের একই বাড়ির ভিন্ন রুমে বসবাস করতেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে নারীর কাছে অনুপযুক্ত প্রস্তাব ও অঙ্গভঙ্গি করেন, যা নারীর স্বামীকে জানিয়ে দেন, তবে স্বামী তা গোপন রাখেন। ২০ আগস্ট ২০১৭ রাত ৯টার দিকে, তিনি নারীর পেছন থেকে জাপটে ধরে কিচেনের পাশে যৌন হয়রানি করেন। একই দিনে নারী ওয়ারী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তের পর ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ থানার এসআই হারুন অথবা রশীদ অভিযোগপত্র দাখিল করেন এবং ১ এপ্রিল ২০১৯ে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। ট্রাইব্যুনাল ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে রায় দেয়।

চ্যানেল ২৪ একই মামলায় মোবারক হোসেন মোহনকে ৫০ বছর বয়সী বলে উল্লেখ করে, তিন বছরের জেল এবং ৫,০০০ টাকার অর্থদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রমের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা বাংলা ট্রিবিউনের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে, সমকাল, বাসস এবং ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনগুলো একই দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর এম.এম. মমিনুল হক সাঈদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ডের কথা জানায়। এই তথ্যগুলো মূল যৌন হয়রানি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং আলাদা মামলার রিপোর্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উপরের সব তথ্য বাংলা ট্রিবিউন এবং উল্লিখিত অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে।