রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম ও ভাটারা থানা এলাকা থেকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১) চীনে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ১২ নারীকে উদ্ধার করেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজার स्थित এসআরবি মিডিয়া সেন্টরে অনুষ্ঠিত একটি সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১ এর অধিনায়ক নেয়ামুল হালিম খান এ তথ্য জানান বলে ইত্তেফাক জানিয়েছে। চ্যানেল ২৪-এর মতে সংবাদ সম্মেলনটি উত্তরা অধিনায়ক করতেন।
প্রথম আলো-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি নিখোঁজ জিডি (সাধারণ ডায়েরি) সূত্র ধরে এসআরবি-১ অভিযান শুরু করে। সোমবার বেলা ৩টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার জমজম টাওয়ার এলাকা থেকে প্রথমে ২ জন নারী উদ্ধার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ভাটারা এলাকা থেকে আরও ১০ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া নারীদের প্রाथমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে এসআরবি জানিয়েছে, চীনে উচ্চ বেতন ও সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল। বৈধ ভ্রমণ সংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক একটি বাসায় আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। পাশাপাশি অনৈতিক কাজে জড়ানোর প্রলোভনও দেওয়া হয়েছিল।
ইত্তেফাক জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১২ নারী পার্বত্য অঞ্চলের (পাহাড়ি) নারী। এসআরবি-১ এর অধিনায়ক নেয়ামুল হালিম খান বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের নারীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের চীনে পাচারের পরিকল্পনা ছিল।
বাংলা ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, একই সময়ে গুলশান ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, বিয়ার ও ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে চ্যানেল ২৪, প্রথম আলো বা ইত্তেফাক-এ এই অতিরিক্ত গ্রেফতারের কোনো উল্লেখ নেই।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছু তথ্যের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। চ্যানেল ২৪ শুধু 'বিদেশে পাচার' বললেও প্রথম আলো, বাংলা ট্রিবিউন ও ইত্তেফাক স্পষ্টভাবে 'চীনে পাচার' উল্লেখ করেছে। ইত্তেফাক নারীদের 'পাহাড়ি' হিসেবে চিহ্নিত করেছে, অন্য মাধ্যমে এ বিষয়ে কিছু নেই। সংবাদ সম্মেলন কে করতেন সেটেও চ্যানেল ২৪ 'উত্তরা অধিনায়ক' বললেও ইত্তেফাক 'অধিনায়ক নেয়ামুল হালিম খান' নাম উল্লেখ করেছে। এছাড়া বাংলা ট্রিবিউন মদ ও মাদকসহ গ্রেফতারের খবর দিয়েছে যা অন্য মাধ্যমে অনুপস্থিত।
এসআরবি-১ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নারীদের পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলমান রয়েছে বলে প্রথম আলো জানিয়েছে।






