প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে চীনের সাবেক নেতা মাও সেতুংকে নিয়ে রসিকতা করা একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর, চীনের দু’টি বৃহৎ প্রতিষ্ঠান—পানীয় প্রস্তুতকারক ডংপেং এবং দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী মেংনিউ—তার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে।

কোম্পানিগুলোর বিবৃতি

ডংপেংের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "জাতীয় অনুভূতিতে আঘাত করে, এমন যেকোনো আচরণের কঠোর বিরোধিতা করে আমাদের প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের আচরণের ক্ষেত্রে আমাদের নীতি হলো শূন্য সহনশীলতা।" একই সঙ্গে তারা অবিলম্বে এমবাপ্পের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করবে বলে জানিয়েছে। মেংনিউও অনুরূপভাবে জানিয়েছে যে তারা "অবিলম্বে কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করছে" এবং "চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করে, এমন যেকোনো কথা বা কাজের কঠোর বিরোধিতা করে"।

ভিডিওতে কী বলা হয়েছে

প্রথম আলোর মতে, ভিডিওতে এমবাপ্পে একটি মিমের কথা উল্লেখ করেন যেখানে তার মুখ অন্য একজনের ছবিতে বসিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং তিনি সেই ব্যক্তিকে "একজন চীনা স্বৈরশাসক" বলে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে মাও সেতুংয়ের ছবিতে তার মুখ বসিয়ে তৈরি মিমও ভিডিওতে দেখা যায়। তবে এফপির ফ্যাক্ট‑চেক বিভাগ ভিডিওটির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

চীনের প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক মিডিয়া

মাও সেতুংকে নিয়ে রসিকতা চীনে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রথম আলো উল্লেখ করেছে যে, চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে ব্যবহারকারীরা এমবাপ্পের মন্তব্যকে "অত্যন্ত গুরুতর ভুল মন্তব্য...সব সীমা অতিক্রম করেছে" বলে সমালোচনা করেছেন এবং ডংপেংের এনার্জি ড্রিংকের বোতল থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলার দাবি তুলেছেন। চীনের ফুটবল সংবাদমাধ্যম ডংচিউদি (Dongchudi) বলেছে যে, এমবাপ্পের মন্তব্য চীন ও চীনা জনগণের প্রতি অপমানজনক এবং চীনা ফুটবলপ্রেমীদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।

অন্যান্য মিডিয়ার প্রতিবেদন

সমকালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিতর্কের সূত্রপাত ফরাসি টক শো "দ্য ব্রিজ" থেকে এসেছে এবং ভিডিওটির সত্যতা এএফপির দ্বারা যাচাই করা যায়নি। এছাড়া, সমকাল জানিয়েছে যে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি লা লিগের ম্যাচ সম্প্রচার স্থগিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলা ট্রিবিউন ও বাসসও একইভাবে ডংপেং ও মেংনিউয়ের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্নের খবর প্রকাশ করেছে।

এই ঘটনায় চীনের জাতীয় অনুভূতি ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া তারকার মন্তব্যের সংবেদনশীলতা স্পষ্ট হয়েছে, এবং কোম্পানিগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ এই সংবেদনশীলতা রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে। (তথ্য: প্রথম আলো)