প্রথম আলো অনুসারে, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর গ্রামে রাধারমন দত্তের সমাধিস্থলে তার প্রয়াণদিবসের অনুষ্ঠান কবরস্থানের পাশে না করার জন্য স্থানীয় ‘কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন’ সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)‑এর কাছে চিঠি জমা দিয়েছে। চিঠি ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ (সোমবার) তারিখে প্রদান করা হয়েছে।

চিঠিতে অনুষ্ঠানকে ‘অনৈসলামিক’ বলে উল্লেখ করে, কবরস্থান ও মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় গানের আয়োজন বন্ধের দাবি করা হয়েছে। এতে কেশবপুর বাজার‑সংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় রাধারমন দত্তের নাম ব্যবহার করে গানের আয়োজনের ফলে শান্তিশৃঙ্খলা হ্রাসের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে ২৩ জন বাসিন্দার স্বাক্ষর রয়েছে, যার মধ্যে আবদুল কাদির, রফিক মিয়া, মো. তৈমুর আলী, আনকার, খালেদ, সোহেল, মো. রফিকুল, জাহাঙ্গীর, আবু মিয়া, মো. রফিক আলী, দিলা মিয়া, ওয়াহিদ, ইকবাল, আবু তাহের, আওলাদ ও তারেক মিয়া ইত্যাদি নাম উল্লেখ আছে।

সংগঠনটি প্রায় তিন মাস আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং তারা দাবি করে যে তারা কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত নয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, আবেদনটি রাধারমন দত্তের সমাধিস্থলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তিনি জানান, রাধারমন দত্তের প্রয়াণদিবসের অনুষ্ঠান প্রতি বছর ৯ ও ১০ নভেম্বর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এবং এর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রস্তুতির জন্য ১ নভেম্বর একটি সভা আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সব ধর্ম ও মতের মানুষ অংশ নেবে।

একজন গ্রামবাসীর মতে, কবরস্থান ও মসজিদ বাজারের পাশে অবস্থিত এবং শেষবার সেখানে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠান ৫ আগস্ট ২০২৪-এ অনুষ্ঠিত হয়; তার পর থেকে আর কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।

সমকাল প্রতিবেদনে একই আবেদন উল্লেখ করা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান জানান, অনুষ্ঠান বন্ধের কোনো আলোচনা হয়নি। সমকাল আরও জানায়, ২০২৩ পর্যন্ত প্রতি বছর দুই দিন ধরে সমাধি এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতো; দুই বছর ধরে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।

বাংলা ট্রিবিউনও ২৬ অক্টোবর কেশবপুর ইসলামিক অর্গানাইজেশন ইউএনওকে চিঠি প্রদান এবং গানের আয়োজনকে ‘অনৈসলামিক’ বলে উল্লেখের তথ্য পুনরায় নিশ্চিত করেছে।

প্রথম আলো ও উল্লিখিত অন্যান্য সূত্রের মতে, কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন এই স্থানে অনুষ্ঠান করার জন্য অনুমোদন চায়নি।