প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন ভারতের লাদাখ অঞ্চলের অন্তত ২৮টি এলাকাকে নিজের ভূখণ্ড হিসেবে একটি নতুন মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করেছে। চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং দাবি করেছেন যে, ভারত একপক্ষীয়ভাবে ‘লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে যা চীন কখনো মেনে নেয়নি। তাঁর মতে, চীন-ভারত সীমান্তের পশ্চিমাঞ্চলের এই এলাকাগুলো ঐতিহাসিকভাবে চীনের ভূখণ্ড।

চীনের এই দাবির প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে বলেছে, লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য’ অংশ। চীন যতবারই অস্বীকার করুক না কেন, এই প্রতিষ্ঠিত সত্য বদলে যাবে না। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও সীমানা নিয়ে কথা বলার কোনো অধিকার বেইজিংয়ের নেই।

বিতর্কিত এলাকাগুলোর তালিকায় ২০২০ সালের সীমান্ত উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ‘গোগরা’ ও ‘হট স্প্রিং’ রয়েছে। এছাড়া আলিশা গিরি, কারুন পীর ও জোরাওয়ার পিকের মতো কৌশলগত পাহাড়, গিরিপথ ও হিমবাহও তালিকাভুক্ত।

২০২০ সালের জুন মাসে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনা সেনাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। ১৯৭৫ সালের পর প্রথমবার দুই দেশের মধ্যে প্রাণঘাতী সামরিক সংঘাত ঘটে। ওই ঘটনায় ভারতের অন্তত ২০ সেনা নিহত হন। চীনের ক্ষতির বিষয়ে অফিসিয়ালভাবে কিছু জানা যায়নি, তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে চীনের চার সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছিল।

পরে সেনা প্রত্যাহারে উভয় দেশ সম্মত হলেও সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর চাপা উত্তেজনা রয়ে গেছে। নতুন মানচিত্র ও সীমান্ত এলাকা নিয়ে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।