আজকের পত্রিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার জন্য আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা মঙ্গলবার আരം্ভ হয়েছে।
বাণিজ্যসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী উদ্বোধন করেন। আলোচনার কার্যপরিধি নির্ধারণে দুই দেশের প্রতিনিধিদল 'টার্মস অব রেফারেন্স' (টিওআর) স্বাক্ষর করেছে। মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ করছেন, বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন।
২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২৮৪ কোটি মার্কিন ডলার ছিল। বাণিজ্যসচিব বলেন, বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আশাব্যঞ্জক হলেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। এফটিএ সম্পন্ন হলে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সাহায্য করবে। এছাড়া বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
চুক্তির সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন বাণিজ্যসচিব। মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তি শুধু শুল্ক কমানোর বিষয় নয়, এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ। বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন মতে, চুক্তি কার্যকর হলে বাজারে প্রবেশ সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নমনীয়তার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার জানিয়েছেন। পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন বা পণ্যের উৎপত্তিবিধি এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের স্বার্থরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফার আলোচনা ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।






