বাংলা ট্রিবিউন অনুসারে, বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন যে, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অক্টোবরের মধ্যেই সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তিনি এ বিষয়ে আশাবাদী এবং আগামী সপ্তাহ বা তার পরের সপ্তাহে একটি নিষ্পত্তি দেখার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন, যাতে ২৪ নভেম্বরের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়।
মন্ত্রীর মতে, সরকার অতিরিক্ত সময়কে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার জন্য একটি সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভাগ করেছে। এই পরিকল্পনার অধীনে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজার ধরে রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা শক্তিশালী করা হবে। একই সঙ্গে, উত্তরণ পূর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ আলোচনার জন্য প্রধান আলোচক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রথম দফার কারিগরি আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি চলছে, যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এলডিসি উত্তরণে যুক্ত আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, পূর্বে রাজনৈতিক গুরুত্বের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল, ফলে অর্থনৈতিক ও আর্থিক প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিল না। তাই অতিরিক্ত সময় পাওয়া গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজারের প্রবেশাধিকার এবং আইনি কাঠামো উন্নত করার জন্য কাজ করা হবে।
বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্য ও অন্যান্য উদ্যোগ
মন্ত্রীর বক্তব্যে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের মধ্যে আট থেকে দশটি দেশের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) অথবা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া, আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসেপ) চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াও অগ্রসর হচ্ছে; নীতিগত অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং এখন প্রক্রিয়াগত কাজ চলছে।
বাণিজ্যিক পরিবেশ সহজ করার জন্য সরকার একক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু, লাইসেন্সের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং সমন্বিত পরিদর্শনসহ বিভিন্ন সংস্কার চালু করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে ২০২৭ সালের মধ্যে ব্যবসা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষা সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বর্তমানে একটি ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়ায় ট্রেড লাইসেন্স, ব্যাংক হিসাব, প্রাথমিক ছাড়পত্র, আমদানি নিবন্ধন সনদ এবং ঋণপত্র প্রাপ্তিতে গড়ে ৩৫৫ দিন সময় লাগে।
শক্তি সরবরাহের ঘাটতি নতুন বিনিয়োগের জন্য বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, নতুন লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল এবং গ্যাসকূপ খননের কাজ চলছে, পাশাপাশি সৌরশক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
এই বিষয়গুলো নিয়ে ১৯ অক্টোবর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) যৌথভাবে আয়োজন করা সেমিনারে মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফটিআইের সিইও ড. মোস্তফা আবিদ খান এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএসএম মঈনুল হক।
চ্যানেল ২৪ এবং দেশ রূপান্তরসহ অন্যান্য মিডিয়া এই তথ্যগুলো পুনরায় প্রতিবেদন করেছে, যেখানে একইভাবে অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা এবং অতিরিক্ত সময়ের জন্য প্রস্তুত কর্মপরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে।






