জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি (Least Developed Country) তালিকা থেকে স্নাতকত্বের প্রস্তুতি সময় তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে স্নাতকত্বের শেষ তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ২৪ নভেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত স্থানান্তরিত হয়েছে।
প্রসারণের পটভূমি ও প্রস্তাবের উৎস
উরুগুয়ের প্রতিনিধি বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন; প্রস্তাবটি গোষ্ঠী ৭৭ (Group of 77) ও চীনের সমর্থন পেয়েছে। প্রস্তাবটি ইউনাইটেড নেশনসের ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটি (CDP) এর ইতিবাচক মূল্যায়ন এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ECOSOC) এর সুপারিশের পর গৃহীত হয়।
বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্প্রসারণের অনুরোধ জানায়, যেখানে কোভিড-১৯ মহামারীর পরবর্তী প্রভাব, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি সরবরাহের চাপ উল্লেখ করা হয়।
বিস্তৃত অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট
দেশটি ইতিমধ্যে এলডিসি স্নাতকত্বের জন্য নির্ধারিত তিনটি মানদণ্ড পূরণ করেছে, তবে সরকার যুক্তি দেয় যে রপ্তানি শিল্পকে হঠাৎ প্রতিযোগিতামূলক অসুবিধার মুখে না ফেলার জন্য অতিরিক্ত প্রস্তুতি সময় প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রস্তুত পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্প, যা দেশের রপ্তানি আয়ের অধিকাংশ অংশ গঠন করে, তা এই সময়সীমা বাড়িয়ে নিরাপদ রাখতে চায়।
এলডিসি অবস্থায় বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের 'Everything But Arms' (EBA) মত সুবিধা পায়, যার মাধ্যমে শুল্কমুক্ত ও কোটা-মুক্ত রপ্তানি সম্ভব। স্নাতকত্বের পর এই সুবিধা ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে; ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত তিন বছরের ট্রানজিশন সময় থাকে, তবে নতুন চুক্তি না থাকলে গার্মেন্টস রপ্তানিতে প্রায় ১২% শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।
বাণিজ্য ও কাঠামোগত সংস্কার পরিকল্পনা
বাণিজ্য, শিল্প ও জুট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির উল্লেখ করেছেন যে সরকার ২০২৬–২৭ অর্থবছরে আট থেকে দশটি দেশ সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (RCEP) এর সুযোগও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
অবস্থানীয় বাধা হিসেবে দীর্ঘ লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া, নিয়ন্ত্রক দেরি এবং অনির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখ করা হয়েছে; ডিজিটালাইজেশন, লাইসেন্সিং সরলীকরণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সমন্বয় উন্নয়নের মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান পরিকল্পনা করা হয়েছে।
অন্যান্য মিডিয়ার প্রতিবেদন ও পার্থক্য
প্রথম আলো ইংরেজি (Prothom Alo English) অনুসারে, একই সিদ্ধান্তের অনুমোদন UNGA-র প্লেনারি সেশনে অনুষ্ঠিত হয়, যা শুক্রবার সকাল ১ টায় শুরু হয় এবং UNGA প্রেসিডেন্ট খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে হয়। তবে ঢাকা ট্রিবিউনের মূল প্রতিবেদনে এই সময় ও প্রেসিডেন্টের উল্লেখ নেই। একই প্রতিবেদনে ফ্রান্স, কানাডা ও আয়ারল্যান্ড (ইইউ প্রতিনিধিত্বে) এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে সংস্কার আহ্বান করেছে, যেখানে ঢাকা ট্রিবিউনে গোষ্ঠী ৭৭ ও চীনের সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দৈনিক অবজারভার (Daily Observer) এবং BSS উভয়ই UNGA-র ৮১তম সেশনে (অক্টোবর ২৯, ২০২৬) উরুগুয়ের উপস্থাপনা উল্লেখ করেছে, যা মূল প্রতিবেদনের 'বৃহস্পতিবার' উল্লেখের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই পার্থক্যগুলোকে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তথ্যগুলো ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী সংগ্রহ করা হয়েছে।






