জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও তিন বছর সময় দিয়েছে। একই সাথে নেপালকেও একই সময় দেওয়া হয়েছে। নতুন উত্তরণ তারিখ হিসেবে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের পেছনে বাংলাদেশ সরকারের এক বছরের সমন্বিত উদ্যোগ, কূটনৈতিক তৎপরতা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা ও দর-কষাকষি এবং ব্যবসায়ী মহলের সহযোগিতা ছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্মদিবস থেকেই এই সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন। তিনি ইউএন ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটির (সিডিপি) কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে আরও তিন বছর সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ধকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশিত ছিল। তিনি সরকারকে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ায় ধন্যবাদ জানান।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, হাতে সময় সীমিত। তাই এখনই পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ যেসব শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে, সেগুলোই বহাল থাকবে। এলডিসি উত্তরণের পরও বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখতে জরুরি ভিত্তিতে এফটিএ সম্পাদনের ওপর জোর দেন। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে এফটিএ করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের এফটিএ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে বাংলাদেশকেও দ্রুত এ ধরনের চুক্তি সম্পাদনে এগিয়ে যেতে হবে। এফটিএ সম্পাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিতে হবে।