ইনডিপেনডেন্ট টিভি অনুসারে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে টোকিও ত্যাগ করে ঢাকা ফিরে আসেন। সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদৎ স্বাধীন জানান, প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে স্থানীয় সময় রাত ২২:৪৪ তে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হয়। তবে বাসস ও প্রথম আলোতে প্রস্থানের সময় ২২:৫৫ উল্লেখ করা হয়েছে, যা একটি পার্থক্য।

সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, জাপানি ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে বিনিয়োগ আলোচনা এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা এবং আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয় আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী এক ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন; ইনডিপেনডেন্ট টিভি ও অন্যান্য সূত্রে এই পরিমাণকে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দুইটি ঋণ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি ৪৬.৫৬ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার) পাওয়া গেছে।

সফরে মোট ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে উপকূলীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করার জন্য সর্বোচ্চ ২.১২ বিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ১৩.৪৪ মিলিয়ন ডলার) অনুদান চুক্তি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ব্যবসায়িক পরিবেশ, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মতে, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (JETRO) এর আয়োজনে বেসরকারি খাতের ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২৮ অক্টোবর টোকিওতে JETRO সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী মোটরগাড়ি উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ, দ্রুতগতির রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণকে অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী জাপানের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, JICA প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা, JIBIC গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং JETRO প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা অন্তর্ভুক্ত। তিনি ইউনিক্লো, মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন এবং জেইআরএসহ শীর্ষ জাপানি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিনিয়োগ, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী ২৭ অক্টোবর ফুতসুতে JETRO’র LNG টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ইচিকাওয়ায় লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন, এবং নাগোয়ায় টয়োটা মোটোমাচি কারখানা ও টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন করে জাপানের মোটরগাড়ি উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা নেন।

এই সফরটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (EPA) পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। ইনডিপেনডেন্ট টিভি উল্লেখ করেছে যে জাপান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন সহযোগী, এবং ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে সহায়তা প্রদান করছে।