প্রথম আলো অনুসারে, ভারতের উত্তর প্রদেশে পুলিশ গরু পাচার অভিযোগে মুসলিম সন্দেহভাজনের পায়ে গুলি করে ‘অপারেশন ল্যাংড়া’ নামে পরিচিত কৌশল ব্যবহার করছে। এই কৌশলটি পায়ে, বিশেষ করে হাঁটুর নিচে গুলি করার মাধ্যমে শিকারকে অচল করে রাখে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২০ সাল থেকে গরু পাচার অভিযোগে প্রায় ৬৫০ জন সন্দেহভাজন গুলিতে আহত হয়েছে। একই সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ৩১৬ জন সন্দেহভাজন ‘এনকাউন্টারে’ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ১১০ জন মুসলিম। এছাড়া ১২,৮৯০ জন সন্দেহভাজন আহত হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা অমিতাভ যশ এপিকে বলেন, গুলি করা কেবল আত্মরক্ষার জন্য এবং পায়ে গুলি করার কোনো নির্দেশ নেই। তিনি যুক্তি দেন যে গরু সুরক্ষা আইনের সঙ্গে গবাদিপশু ব্যবসায় অধিকাংশ মুসলিম জড়িত থাকায় গুলিতে আহতদের মধ্যে মুসলিমের হার বেশি।
দিল্লির মানবাধিকার আইনজীবী মঙ্গলা ভার্মা উল্লেখ করেন, “এটি এক বিপজ্জনক পরিস্থিতি এবং এখন পুলিশের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “তদন্তের বদলে পুলিশ ব্যক্তিকে হত্যা বা আহত করছে।”
উত্তর প্রদেশের হাইকোর্টও পুলিশের গুলির প্রথা সমালোচনা করেছে। আদালত উল্লেখ করেছে যে, পায়ে গুলি করার চর্চা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে এবং তা “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য”। কিছু বিচারক বলেছেন, এই প্রথা সম্ভবত কর্মকর্তাদের ক্যারিয়ার অগ্রগতি বা জনসাধারণের সহানুভূতি অর্জনের জন্য করা হচ্ছে।
দ্য সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেটের তথ্য অনুযায়ী, গরু পাচারসংক্রান্ত এনকাউন্টারে আহত সন্দেহভাজনের ৯৩ শতাংশই মুসলিম। এই বিশ্লেষণ ৬২৭টি ঘটনার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
অধিকারকর্মী ও বিরোধীদলীয় নেতারা এই চর্চাকে “রাষ্ট্র‑সমর্থিত সহিংসতা” বলে সমালোচনা করেছেন এবং বলছেন, এটি সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের একটি রূপ।
প্রথম আলো উল্লেখ করেছে যে, ২০১৩ সালে ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী উত্তর প্রদেশের পুলিশ বাহিনীতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব মাত্র ৪.৮ শতাংশ ছিল।
এই ঘটনাগুলোর ফলে বহু পরিবার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি ও আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে গুলি হওয়া ব্যক্তির পরিবারগুলোকে ঋণ নিয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে।
প্রথম আলো অনুসারে, এই গুলির প্রথা এবং তার প্রভাব নিয়ে আরও তদন্তের আহ্বান করা হয়েছে।






