ইন্দোনেশিয়ার বোরনিও দ্বীপের পালাংকারায়া শহরে চলমান দাবানল ও বিষাক্ত ধোঁয়ার ফলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে ১১,০০০‑এর বেশি মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন, বাসসের তথ্য অনুযায়ী।
মধ্য কালিমান্তান প্রদেশের ৫৭ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক ও কৃষক সুদারসোনো, ধোঁয়ার মধ্যে বাড়ি ত্যাগের সময় অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করে শ্বাস নেন এবং পরে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি বলেন, “আমি মাস্ক ও সুরক্ষাচশমা পরেছিলাম, তবু ধোঁয়া চারদিকে ঘিরে ধরেছিল।”
পালাংকারায়া শহরের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে আলেক্সান্দ্রা সুরিয়া হাবসারি নেবুলাইজার ও অক্সিজেন পেয়ে শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যথার চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি এফপিকে-তে জানান, “আমি সত্যিই অতিষ্ঠ, কিন্তু এই পরিস্থিতি সহ্য করা কঠিন।”
স্থানীয় প্রশাসন অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ বাস চালু করেছে; সিতি জুমিয়াতি বলেন, “আজ এই বাসে আমি বিনা মূল্যে শ্বাস নিতে সহায়তা পাচ্ছি।”
ইন্দোনেশিয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সাতটি প্রদেশে ৩ লক্ষের বেশি মানুষ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। দেশজুড়ে প্রায় ৫০০টি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে মধ্য কালিমান্তান প্রদেশে প্রায় ৩০০টি।
বন উজাড় পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নুসান্তারা অ্যাটলাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ১৯ লক্ষ হেক্টরের বেশি বন ও ভূমি দাবানলে পুড়ে গেছে। সরকার এই হিসাবের সত্যতা নিশ্চিতও করেনি, নাকচও করেনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ধোঁয়ায় উপস্থিত পিএম২.৫ কণার সংস্পর্শে রোগ ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে। প্রতিবেশী দেশগুলো কূটনৈতিক পর্যায়ে আপত্তি জানিয়ে আছে এবং দেশের ভিতরে সরকারবিরোধী প্রতিবাদও দেখা দিচ্ছে।
এই তথ্যগুলো বাসসের সূত্রে পাওয়া গেছে।






