পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন বাধা দেওয়া ঘটনাকে নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নিন্দা প্রকাশ করেছেন। তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতের পোস্টে জানাজা ও দাফনের অধিকারকে ন্যূনতম মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার বলে উল্লেখ করেন এবং তা ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ারা লীগ’ কর্তৃক হরণ করা হয়েছে বলে সমালোচনা করেন (বাংলা ট্রিবিউন)।

ঘটনার পটভূমি

মানিক পশারীকে ২৪ অক্টোবর (শনিবার) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নে তার নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়। দাফন ও গার্ড অব অনার প্রদান নিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীরা তাকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবি করে বিরোধিতা করেন, যা দাফনের আগে জটিলতা সৃষ্টি করেছিল (বাংলা ট্রিবিউন)।

নাহিদ ইসলাম পোস্টে অতীতের কিছু ঘটনার তুলনা করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে এমন দৃশ্য আর দেখা না চাইতে। তিনি উল্লেখ করেন, মুজিববাদী ফ্যাসিস্টরা শহীদ মিনারের পিয়াস করিম ও আল মাহমুদের দেহ আনতে দেননি, এবং বিরোধী দলের অনেক নেতার জানাজা ঢাকায় করা হয়নি। তবে তিনি দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের পরে রক্ষী বাহিনীর নেতা ‘ফ্যাসিস্ট তোফায়েল’ এবং তার নিজের এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা একেএম রহমতুল্লাহর জানাজা পার্লামেন্টের রীতি অনুসারে অনুষ্ঠিত হয়েছে (বাংলা ট্রিবিউন)।

নাহিদ ইসলাম অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর সারা দেশে ঘটিত ‘নারকীয় হত্যাযজ্ঞ’ উল্লেখ করেন এবং সেই সময়ের মানবাধিকার কর্মীদের নীরবতা সমালোচনা করেন (বাংলা ট্রিবিউন)। তিনি আরও বলেন, মুজিববাদীরা দেহের ওপর নৃত্য‑উল্লাস, কবর ভাঙচুর এবং জানাজা না দেওয়া স্বাভাবিক ঘটনা বানিয়েছে, এবং বর্তমানে শহীদ ওসমান হাদীর কবরের উৎখাতের সম্মতি উৎপাদন করা হচ্ছে (বাংলা ট্রিবিউন)।

এইসব মন্তব্যের পাশাপাশি, নাহিদ ইসলাম পিরোজপুরে দাফন বাধা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সকল নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের পক্ষে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন (বাংলা ট্রিবিউন)।

অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও একই বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়েছে। চ্যানেল ২৪, বার্তা২৪ এবং আজকের পত্রিকা সকলেই নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পোস্টের উল্লেখ করে, জানাজা ও দাফনকে মৌলিক মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ারা লীগ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন (চ্যানেল ২৪; বার্তা২৪; আজকের পত্রিকা)।