ইনডিপেনডেন্ট টিভি (ITV) অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় মানিক পশারীর দাফন সংক্রান্ত জটিলতা সম্পর্কে জানে না এবং কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পায়নি। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান সোমবার বিকেলে রায়বাজার বধ্যভূমি পরিদর্শনের পর জানান, বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তিনি যোগ করেন, দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের বিবরণ
ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে পিরোজপুরে ২৪ অক্টোবর (শনিবার) দুপুরে মানিক পশারীর বাড়ির কাছে প্রথমে কবর খোঁড়া হয়। স্থানীয় গ্রাম পুলিশ কর্মকর্তা মতিউর রহমানের মতে, মাগরিবের পর একটি দল কবরটি ভরাট করে দেয়; পরে রাত ১১:৩০ থেকে ১২টার মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আবার কবর খোঁড়ার কাজ চালু হয়।
রহমান জানান, কবর খোঁড়ার জন্য তিনি মানিকের এক বোনের বাড়ি থেকে সরঞ্জাম নিয়ে আসেন; বোন এবং দুইজন নারী সেখানে সহায়তা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কবর খোঁড়ার সময় দুজন পুরুষও উপস্থিত ছিলেন, ফলে তিন নারী একা কাজ করেন—এই তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি থেকে ভিন্ন।
পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাফনের সময় উপস্থিত ছিলেন; তিনজন গ্রাম পুলিশ এবং দুইজন স্থানীয় ব্যক্তি সহায়তা করেন। দাফনের সময় কোনো নারী উপস্থিত ছিলেন না, এ কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
মানিকের বোন হেনা পশারী জানান, প্রথমে পরিবার ও কিছু বাইরের লোকজন কবর খোঁড়ার কাজে অংশ নেয়। তবে কবর ভরাটের পর এবং জামায়াত-শিবিরের লোকজনের হুমকির কারণে অনেকেই ভয়ে চলে যান। তিনি যোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের লোকজন কবর ভরাট করে দেয় এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য শু'তে জুতা মারার হুমকি দেয়।
পিরোজপুর সদর থানা ওসি মো. শরিফুল ইসলাম নিশ্চিত করেন, পুলিশ ও উপজেলা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে দাফন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তিনি কবর ভরাটের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এই তথ্যগুলো ইনডিপেনডেন্ট টিভি এবং ঢাকা পোস্টের রিপোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের জানামতে, দাফন সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়নি, তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।






