ডয়চে ভেলে বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে বের হওয়ার সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা তাকে উদ্দেশ্য করে স্লোগান দেন এবং ‘টেররিস্ট’ ও ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলে চিৎকার করেন।
এই ঘটনার পর ঢাকায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’। তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করলে তা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না এবং সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তার ভিভিআইপি মর্যাদায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, অধ্যাপক ইউনূস নিজে এই ঘটনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তবে তিনি চাইলে দূতাবাস থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সাবেক নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী টেলিফোনে দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কেউ জড়িত বলে তার জানা নেই।
এদিকে বিদেশে বাংলাদেশি বিশিষ্টজন ও সরকারের প্রতিনিধিদের হেনস্তার ঘটনায় রাজনৈতিক নেতা ও আইনি বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ডয়চে ভেলেকে জানান, এর আগেও যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের হেনস্তা বা হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা রোধে সরকারকে কূটনৈতিক পর্যায়ে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুকও দেশের বাইরে এ ধরনের ঘটনা বন্ধে দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।




