কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী “কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস” ট্রেনের বগিগুলো ইঞ্জিন ছাড়াই প্রায় এক কিলোমিটার পথ পেছনের দিকে চলে গেছে বলে জানিয়েছেন স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটি হঠাৎ এভাবে চলতে শুরু করলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে একজন গার্ড ট্রেনে উঠে জরুরি ব্রেক কষলে সেটি থামে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভৈরব রেলওয়ে জংশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হতে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরি করে।

ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন ট্রেনের গার্ড ওমর আলী। তার ভাষায়, “ট্রেনটি ভৈরবে পৌঁছায় সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে। ইঞ্জিন কেটে আউটার থেকে ঘুরে আসার কথা ছিল। কিন্তু লাইন ঢালু থাকায় বগিগুলো পেছনের দিকে চলে যায়।” তিনি তাৎক্ষণিক ট্রেনে উঠে ইমারজেন্সি ব্রেক করলে ট্রেনটি থামে। তার ভাষ্য, “যাত্রীরা কিছুটা আতঙ্কিত হলেও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”

এক যাত্রীর বর্ণনায়, “কিশোরগঞ্জ থেকে ৪টায় রওনা দিয়েছিলাম। ভৈরবে এসে দেখি ট্রেনটি পেছনের দিকে চলছে। প্রথমে ভেবেছিলাম ইঞ্জিন দিয়েই চলছে, পরে দেখি ইঞ্জিন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চলছে। আমিসহ অনেকেই চরম ভয়ে ছিলাম।”

আরেক যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “ভৈরবে এসে এক ভীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছি। যাত্রীরা সবাই চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা চাই রেলপথে সরকারের নজরদারি আরও বাড়ানো হোক।”

স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ আরও জানান, “লাইন ডাউন থাকায় এমনটা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রামগামী চারটি ট্রেনকে লাইন দিতে গিয়ে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ছাড়তে প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে।”

একই ধরনের খবর পাওয়া গেছে দেশ রূপান্তরে। সেখানেও বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার পর ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। বগিগুলো আউটার এলাকায় পৌঁছে গেলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে গার্ডরুমের হার্ডব্রেক চেপে বগিগুলো থামানো হয়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান কয়েক শ যাত্রী।