ঠাকুরগাঁও‑১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটের আর মাত্র এক দিন বাকি থাকলেও জামায়াত‑ইসলামী ও বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তার তালিকায় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছে।

জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে জানিয়ে বলেন, প্রচারণা শেষ হওয়ার পর ‘ইএসডিও’ নামের স্থানীয় এনজিওর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রভাবিত করা হয়েছে, যা তিনি আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার তালিকায় একটি নির্দিষ্ট দলের অনুসারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এবং আখানগরের বলিতাপাড়ায় বিএনপি সমর্থকদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও কোনো বিচার না পেয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মাওলানা আব্দুল হাকিম ও জেলা সহকারী কফিল উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির প্রতিনিধি ও সাবেক কাউন্সিলর মো. আতাউর রহমান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একইভাবে অভিযোগ জমা দিয়ে জানান, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার তালিকায় জামায়াত‑ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিপক্ষের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড ভোটের পরিবেশ নষ্ট করছে। তিনি বলেন, “বিএনপি একটি বড় সংগঠন, মাঠ পর্যায়ে অসংখ্য সমর্থক রয়েছে; ছোটখাটো ঘটনা অস্বাভাবিক নয়, তবে আমাদের প্রার্থী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে প্রতিপক্ষ কোনো উসকানি দিলেও ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু রাখা হবে।”

রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম উভয় পক্ষের অভিযোগ স্বীকার করে জানান, “একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করা হবে, সবই করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হবে।”

এদিকে, ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে; আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ১৮৫টি কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হবে।

এই তথ্য আজকের পত্রিকা অনুসারে।