ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যশোর শহরের মুড়লী মোড়ে অনুষ্ঠিত ১১‑দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় সতর্কতা প্রকাশ করেন যে, সংসদে সাত দফা দাবির সমাধান না হলে চলমান আন্দোলন শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের এক দফা রূপ নিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারকে সময় দিতে চায় এবং সংসদে বসেই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারসহ সাত দফা দাবির সমাধান করতে চায়; না হলে জনগণকে নিয়ে আবার গণবিপ্লবের ডাক দেওয়া হবে।

পথসভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ার, এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহসহ ১১‑দলীয় জোটের বহু নেতা বক্তব্য দেন। পারওয়ার সরকারকে আট মাসে দেশ ধ্বংসের দায়ে অভিযুক্ত করে, BNP‑এর সমালোচনা করেন এবং ৫ কোটি মানুষ গণভোটে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি ৯ তারিখের সংসদ অধিবেশনে গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করার আহ্বান জানান।

আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, পথসভায় প্রায় ৩০,০০০ মানুষ সমাগম করেন। একই সন্ধ্যায়, লংমার্চের গাড়িবহর শিল্পশহর নওয়াপাড়ায় পৌঁছে হাজারো নেতাকর্মীকে স্বাগত জানায়; সেখানে সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে গাড়িবহর যশোরের মুড়লী মোড়ে পৌঁছায়। রালির শেষে, জামায়াতের আমিরের নেতৃত্বে বহর ঝিনাইদহের দিকে যাত্রা করে, পথে বিভিন্ন গ্রাম ও মোড়ে ভিড়ের স্বাগত পায়।

অন্যান্য মিডিয়ার প্রতিবেদন

প্রথম আলো একই সপ্তাহের শনিবার রাত কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত ১১‑দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী জনসভায় শফিকুর রহমানের একই রকম সতর্কতা উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ১১:৩৩ টায় মঞ্চে পৌঁছে ১১:৪৮ টায় বক্তব্য শুরু করেন এবং প্রায় ছয় মিনিট কথা বলেন। তিনি সাত দফা না মানলে এক দফা আন্দোলন অনিবার্য হবে বলে উল্লেখ করেন এবং সরকারের আট মাসের নীতি সমালোচনা করেন।

একাত্তর টিভি-র প্রতিবেদনে শফিকুর রহমানের একই বক্তব্যের সংক্ষিপ্তসার দেওয়া হয়েছে: তারা কোনো দলীয় দাবি নয়, জনগণের অধিকার রক্ষার দাবি নিয়ে এসেছে; সাত দফা মেনে নিলে এক দফা আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না, না হলে এক দফা আন্দোলন অনিবার্য হবে।

উল্লেখযোগ্য যে, ঢাকা পোস্টের তথ্য অনুযায়ী শফিকুর রহমানের বক্তব্য যশোরে হয়েছে, যেখানে প্রথম আলো ও একাত্তর টিভি-র তথ্য কুষ্টিয়ার সমাপনী সভায় হয়েছে। এই অবস্থান ও সময়ের পার্থক্য উভয় সূত্রের মধ্যে ভিন্নতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।