রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে চলমান অবরোধ নিয়ে নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কঠিন চীবর দান উপলক্ষে যাতায়াতের সুবিধার্থে রোববার (১ নভেম্বর) ১৬ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দেয় ইউপিডিএফ-সমর্থিত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি (ইত্তেফাক, ঢাকা পোস্ট)। একই দিনে সশস্ত্র তৎপরতার প্রতিবাদে পাল্টা সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি (ঢাকা পোস্ট)।

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাজেকের সহিংসতা, সশস্ত্র মহড়া এবং পর্যটকদের জিম্মি করে হামলার প্রতিবাদে এই অবরোধ পালন করা হবে। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয় যে গত ১১ অক্টোবর থেকে অবরোধ চললেও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বন্ধ হয়নি; ৩১ অক্টোবর কলাবুনিয়া এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা রোববার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে বাধা থাকবে না বলে জানান। কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের যাতায়াতের জন্যও ব্যবস্থা রাখা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিহার বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে অবরোধকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে (ঢাকা পোস্ট)।

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির ডাকা অবরোধে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও সংবাদকর্মীদের যানবাহন আওতামুক্ত থাকবে। তবে সড়কে যানবাহন না চালানোর জন্য যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পর্যটক ও সাধারণ মানুষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয় (ঢাকা পোস্ট)।

এদিকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়াসনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে (ঢাকা পোস্ট)। অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে; খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের সংকট বেড়েছে এবং পর্যটন কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে (ঢাকা পোস্ট)।

গত ২৬ অক্টোবর উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পাঁচ দাবির মধ্যে চারটিতে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার হয়নি (ঢাকা পোস্ট)। নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন (ঢাকা পোস্ট)।

সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার কারণে খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের সংকট বেড়েছে এবং পর্যটন কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে (ঢাকা পোস্ট)।