ঢাকা পোস্ট অনুযায়ী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বুধবার সন্ধ্যায় গুলশানের ক্রাউন প্লাজার বলরুমে আয়োজিত ‘জাতীয় পানি সম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ব্যারেজের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

রিজভী বলেন, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করলে নদীগুলোর প্রবাহ বাড়বে, যা কৃষি সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে যাচ্ছে এবং উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ তার ন্যায্য পানির হিস্যা পাচ্ছে না।

রিজভী দাবি করেন যে, গত ২০ থেকে ২৫ বছরে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং পদ্মা ও তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ঠেলে দূরে রাখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা সুন্দরবনসহ বিভিন্ন এলাকার জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

তিনি ১৯৭৭ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির গ্যারান্টি ক্লজের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন করেন কেন তা পরবর্তীতে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং বলেন যে, বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে জোরালো আলোচনা চালাতে হবে।

রিজভী দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান, বলেন যে ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ ও শাখা-উপশাখা নদীর প্রবাহ সচল রাখলে কৃষি উৎপাদন, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়নে সহায়তা হবে।