বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোশারফ হোসেন ও তার স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির ব্যাংক হিসাবের যাবতীয় তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU)। এই তথ্য দেশ রূপান্তর অনুযায়ী।

BFIU-র অনুরোধ

২৮ অক্টোবর বুধবার BFIU সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে ই-মেইলে নির্দেশনা পাঠিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে যে আগামী রবিবারের মধ্যে তাদের ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সব চালু ও বন্ধ হিসাবের লেনদেন বিবরণী, হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা দিতে হবে।

মিডিয়া প্রতিবেদন ও লেনদেনের বিবরণ

মিডিয়া অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে গত ২২ মাসে মোশারফের একটি হিসাবে ৩৭ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা নগদে এবং ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা অন্য ব্যাংক থেকে। একই প্রতিবেদনে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে তার একটি হিসাবে ২০১৯ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার টাকা জমা হয়েছে, যদিও বর্তমানে সেই হিসাবে মাত্র ৩ হাজার ৪৫০ টাকা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী মোশারফের নামে ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কেনা, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ জমার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব লেনদেনের কিছু তার আয়কর নথিতে উল্লেখ নেই।

গাজীপুরের ভূরুলিয়া মৌজায় তার আয়কর নথিতে উল্লেখ থাকা জমির বাইরে আরও ৬২.৬৬ শতাংশ জমি পাওয়া গেছে, যা সমকাল ও প্রথম আলো উভয়ই উল্লেখ করেছে।

স্ত্রীর লেনদেন ও অতিরিক্ত অভিযোগ

উম্মে হাসান ডলির হিসাবেও বড় অঙ্কের অর্থ জমা হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। সমকাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি মার্চে ৪৮ লাখ টাকা দিয়ে জমি কিনেছেন।

অতিরিক্তভাবে, সমকাল ও প্রথম আলোতে মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন গভর্নর নিয়োগের দিনে ডেপুটি গভর্নর ও নির্বাহী পরিচালককে জোরপূর্বক আদেশে সই করানোর ঘটনা অন্তর্ভুক্ত। এই অভিযোগগুলোর তদন্ত চলছে।

এ পর্যন্ত BFIU বা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।