রাষ্ট্রীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানিয়ে সমবায় সমিতিগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের দাবি করেন। সমকাল অনুসারে তিনি উল্লেখ করেন, ‘দুর্নীতির কারণে বেশিরভাগ সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে এবং তাদের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে; হাতে গোনা কয়েকটি সমিতি সফলভাবে কাজ করছে।’

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, সমবায় আন্দোলন ১৯০৪ সালে শুরু হয় এবং স্বাধীনতার ঘোষক শিৎ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমবায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান ষাটের দশকে বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ ড. আখতার হামিদ খানকে পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন, ফলে সমবায় আন্দোলনকে অগ্রগতি অর্জন হয়। (এই তথ্যের সঠিকতা যাচাই প্রয়োজন।)

আলমগীর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমবায় উন্নয়নে অবদানও তুলে ধরেন এবং বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সমবায় খাতের দ্রুত গতিশীলতা সম্পর্কে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি সমবায় খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য বিদ্যমান সমবায় সংক্রান্ত আইন সংশোধন ও যুগোপযোগী করার আহ্বান জানান, পাশাপাশি সমবায় সমিতিগুলোকে দেশের এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।

সমবায় সমিতিগুলোর উৎপাদিত পণ্যসমূহের যথাযথ বাজারজাতকরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়ে তিনি সমবায় অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়কে সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি গঠন করার পরামর্শ দেন, যা পণ্য বাজারজাতকরণে সমবায়কে সহায়তা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে এবং তা দূর করা জরুরি।

আলমগীর সমবায়ের মূল ধারণা হিসেবে একতাবদ্ধ কাজ করার কথা বলেন এবং দেশের সামনের দিকে অগ্রসর হতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলে জোর দেন। তিনি বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে সফল সমবায় কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং উপস্থিত সফল সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আনন্দ প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্য শোনা যায়। সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক সেলিম ফকির অনুষ্ঠানের স্বাগত জানিয়ে মূল প্রতিপাদ্য ‘করবো সমবায়, গড়বো দেশ। সবার জন্য বাংলাদেশ’ ঘোষণা করেন। সমকাল অনুসারে, রাষ্ট্রপতি উপস্থিতিতে সফল সমবায়ীদের হাতে পুরস্কার ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং তিনি স্টল পরিদর্শন করেন।

জনকণ্ঠের প্রতিবেদনেও একইভাবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমবায় সমিতিগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার তাগিদ দেন এবং উল্লেখ করেন যে দুর্নীতির ফলে অধিকাংশ সমবায় নষ্ট হয়েছে, মাত্র কয়েকটি সফলভাবে কাজ করছে।

উল্লেখিত তথ্যের মধ্যে কিছু বিষয়—যেমন সমবায় আন্দোলনের সূচনা বছর, জিয়াউর রহমানের ড. আখতার হামিদ খানকে পাকিস্তান থেকে আনা ও তার পদবী, এবং বেগম খালেদা জিয়ার অবদান—যাচাই করা প্রয়োজন।