ডয়চে ভেলে বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, একাত্তরের নভেম্বরে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর ওপর মুক্তিবাহিনীর আক্রমণের মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে কোণঠাসা হতে থাকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে গেরিলারা অতর্কিত আক্রমণ ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নভেম্বরের প্রথম দিনে রাজারবাগের উল্টো পাশে প্রাদেশিক ইলেকশন কমিশন অফিসে এবং কাকরাইল পেট্রোল পাম্পে সফল গেরিলা অপারেশন পরিচালনা করা হয়। এসব ঘটনার ফলে পাকিস্তানি সেনাদের মনোবল ক্রমেই ভেঙে পড়ে। এছাড়া পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আনা পুলিশ সদস্যরাও ধর্মঘট ডাকে এবং রাজাকাররা অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করতে শুরু করে।

অন্যদিকে, মুজিবনগর সরকার ও ভারত সরকারের সম্মতিতে বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ বাহিনী' গঠিত হয়। ২১ নভেম্বর যৌথ বাহিনী যশোরের চৌগাছায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে ত্রিমুখী আক্রমণ চালায়, যা ইতিহাসে ‘ব্যাটল অব চৌগাছা' বা ‘চৌগাছার যুদ্ধ' নামে পরিচিত।