নেত্রকোনার বারহাট্টায় ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগে একজন পুরুষকে কারাদণ্ড করানোর দায়ে বাদী নারিকে (৩৯) এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

গত মঙ্গলবার বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এই রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি নুরুল কবির প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত নারী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

আদালত ও মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৯ এপ্রিল কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন এক প্রতিবেশী নারী। মামলায় ওই নারী নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে দাবি করেন। পরে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে এবং তিনি প্রায় দুই মাস কারাগারে ছিলেন।

সন্তান জন্ম দেওয়ার পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ২০০৯ সালের ২৩ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে নারীর দাবির সত্যতা মেলে না। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি আদালত কামাল উদ্দিনকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস দেন।

পরে মিথ্যা অভিযোগে করা মামলার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি কামাল উদ্দিন ওই নারীর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত নারীরা দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানার আদেশ দেন।

এই তথ্য প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।