দুবাইতে ২৩ অক্টোবর, বিএসএসের এএফপি প্রতিবেদনে ইন্টারন্যাশনাল মোনিটরি ফান্ডের (ইমিএফ) অঞ্চলীয় পরিচালক জিহাদ আজুর হৌতি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক আক্রমণ সউদি আর্থিক ব্যবস্থায় মাত্র সীমিত প্রভাব ফেলছে বলে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দেশীয় চাহিদা এবং শক্তিশালী সরকারি খাতের কারণে প্রভাব কম, তবে ইউএস‑ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের ফলে এই বছর সউদির জিডিপি প্রায় ৩.৩ % হ্রাস পাবে। অঞ্চলীয় রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে, ওমান ছাড়া সব গালফ দেশ হাইড্রোকার্বন উৎপাদনে হ্রাস দেখেছে এবং সমগ্র অঞ্চল ২০২৬ সালে ৪.৮ % সংকোচন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইমিএফ পরবর্তী বছরে প্রায় ৯.১ % বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, যদিও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশি বন্দি ও আক্রমণ সংক্রান্ত উদ্বেগ
ডেইলি অবজারভারের রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, সউদি আরবিতে প্রায় ৭,৫০০ বাংলাদেশি কারাগারে আটক রয়েছে এবং দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক, নাজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার, ১৪ অক্টোবর মক্কায় একটি মসজিদে ‘অশ্লীল কাজ’ের অভিযোগে গলায় গলায় কাতার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই তথ্য জানার পর সংশ্লিষ্ট আদালতের রায় ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য সউদি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে।
প্রোথম অলো ইংরেজি ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হৌতি আক্রমণ, বিশেষত দাম্মাম বিমানবন্দরে হওয়া হামলা, যা দুইজন বাংলাদেশি নাগরিকের ক্ষতি করেছে, তা কঠোরভাবে নিন্দা করেছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আক্রান্ত পরিবারকে সহানুভূতি জানিয়ে সউদি সরকার ও জনগণের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে এবং সকল আক্রমণ তৎক্ষণাৎ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইমিএফের আজুর উল্লেখ করেন, যদি সংঘাত পুনরায় তীব্র হয় এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে আর্থিক ক্ষতি বাড়বে। তিনি আরও জানান, তেল মূল্যের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।
উল্লেখ্য, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস ইউএস যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের সঙ্গদান চালিয়ে যায় তবে সংঘাত বিস্তারের হুমকি জানিয়েছে। এছাড়া, মিড-টার্ম নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন আক্রমণ পরিকল্পনা করতে পারে বলে মিডিয়া রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
বিএসএস অনুযায়ী, হৌতি আক্রমণ সউদির অর্থনীতিতে সীমিত প্রভাব ফেললেও, অঞ্চলীয় অস্থিরতা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।





