প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও সামরিক স্থাপনায় ছয়টি হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, দেশটির পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল, রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণের নাজরান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামরিক স্থাপনায় এসব হামলা চালানো হয়েছে।

বিবৃতি অনুযায়ী, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে রাস তানুরা তেল শোধনাগার, আবকাইকে আরামকোর স্থাপনা এবং রাবিগ শোধনাগারে আক্রমণ চালানো হয়। এ ছাড়া রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নাজরানের সামরিক সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে হুতিরা। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রথম আলো, ইত্তেফাক এবং চ্যানেল আইয়ের খবরে বলা হয়েছে। অন্যদিকে চ্যানেল ২৪-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মক্কা অঞ্চলে ড্রোন হামলার বিষয়ে সৌদি জোটের দাবিও হুতিরা অস্বীকার করেছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকির তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের দিকে আসা দুটি হুতি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, ধ্বংসাবশেষের আঘাতে রিয়াদে এক সৌদি নাগরিক আহত হন এবং একটি বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার আশঙ্কায় এর আগেই রিয়াদ, আল-খারজ এবং নাজরানে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানে সৌদি আরব ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে সংলাপের মাধ্যমে সংঘাত মেটানোর সমঝোতার পরই এই হামলার তথ্য প্রকাশ্যে এলো। ওই আলোচনায় সৌদি ও ইরান ছাড়াও তুরস্ক এবং পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে প্রথম আলো জানিয়েছে।