প্রথম আলো অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘নরক’ নামিয়ে এনেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি ইরানকে পরমাণু অস্ত্র পেতে না দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, যদিও তার এই পদক্ষেপে কিছু মানুষ সমর্থন করছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসেন রেজাই সতর্কতা জানিয়ে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুনরায় আক্রমণ চালায়, তবে পারস্য উপসাগরের সাতটি দেশের তেল স্থাপন, সমুদ্রতলের ডেটা ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মেহেদি মোহাম্মাদি যুক্তি দিয়েছেন, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন হামলার বিষয়ে একমত এবং ইরান এটিকে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে বিবেচনা করবে। তেহরানের নতুন রণকৌশলে কোনো সীমারেখা থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

হরমুজে সাম্প্রতিক জাহাজ আক্রমণ

ইরানের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে এক রাতে সাতটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; তিনটি নৌ-মাইনের আঘাতে এবং চারটি সরাসরি ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) আক্রমণে। তেহরান বলেছে, এই জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত এবং ওয়াশিংটনের উৎসাহে হরমুজে চলছিল।

চ্যানেল ২৪ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র‑ইসরায়েলি আক্রমণ পুনরায় শুরু হয়, ইরান পারস্য উপসাগরের সমুদ্রতলের সাব‑মেরিন ক্যাবলগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে; এই পরিকল্পনা দুই ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তার মাধ্যমে রয়টার্সকে জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ট্রাম্পের হুমকি ও আক্রমণ পুনরায় শুরু না করার কারণের মধ্যে জ্বালানি দামের বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি এবং ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ঝুঁকি না নেওয়া অন্তর্ভুক্ত। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরান ও ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে আক্রমণ চালাতে পারে, এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

ইরান সরকার ইরানের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করাকে যুদ্ধের অংশ হিসেবে গণ্য করবে বলে নতুন নীতি জানিয়েছে।