ঢাকা পোস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী, জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল‑১‑এর বিচাকর মোহাম্মদ আব্দুল রহিম মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জনি মিয়া (৩৭)‑কে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া উপস্থিত ছিলেন না।

মামলায় জানানো হয়েছে যে, জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের দড়িমহলপুর এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে জনি মিয়া, হমিদুর রহমানের মেয়ে তমা খাতুনের সঙ্গে বিবাহবদ্ধ ছিলেন। বিবাহের পর জনি মিয়া তার স্ত্রীর কাছ থেকে অটোরিকশা কেনার জন্য দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা (২.৫ লাখ) যৌতুক দাবি করেন, যা তমার পরিবার দিতে অস্বীকার করে।

তাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর ১৯ মার্চ ২০১৫-এ জনি মিয়া তমাকে মারধর করেন এবং তমা মারা যান। মূল প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ না করা হলেও, ঢাকা টাইমস এবং বাংলা ট্রিবিউন অনুসারে তমা শ্বাসরোধে (সফলভাবে শ্বাস বন্ধ করে) মারা যান।

মৃত্যুর পর জনি মিয়া ও তার পরিবার মৃতদেহটি ঘরের আড়ের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা দেখানোর চেষ্টা করে। তমার মা উম্মে কুলছুম ৬ এপ্রিল ২০১৫-এ জামালপুর সদর থানায় জনি মিয়াকে প্রধান আসামি করে মোট আটজনের নামে মামলা দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনাল‑১‑এ দশজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর রায় দেওয়া হয়।

বিবাদিত তথ্য

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়ার বয়স ও ঠিকানা সম্পর্কে পার্থক্য রয়েছে। ঢাকা পোস্টে বয়স ৩৭ বছর এবং দড়িমহলপুর অঞ্চল উল্লেখ করা হয়েছে; ঢাকা টাইমস ও বাংলা ট্রিবিউনে বয়স ৩৫ বছর বলা হয়েছে, আর দেশ রূপান্তরে বয়স ২৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, দেশ রূপান্তরে তার গ্রামকে লাহারিকান্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে অন্যান্য সূত্রে দড়িমহলপুর বলা হয়েছে। তদুপরি, তমা ও জনি মিয়ার বিবাহের বছর ঢাকা পোস্টে উল্লেখ না থাকলেও, ঢাকা টাইমস অনুযায়ী ২০১৪ সালে বিবাহিত হয়।

এই সব তথ্যের ভিত্তিতে, আদালতের রায় এবং দণ্ডের মূল বিষয় নিশ্চিত করা যায়, তবে বয়স, ঠিকানা ও বিবাহের বছর ইত্যাদি তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা প্রয়োজন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট ফজলুল হক; প্রতিরক্ষা পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মাহফুজা সুলতানা সাথি।

এই তথ্যগুলো ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংকলিত হয়েছে; অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত পার্থক্যপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।