এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার ফেল করেছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৩ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন; এক বছরে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৮৫ হাজার ৫৯২ জন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন; তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। বাকি ৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯৩ জন এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।

গত বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন; তারা পাস করেছিলেন ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন (পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ), এবার ফেল করেন ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন। অর্থাৎ এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট; গত বছরের তুলনায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ; সে হিসাবে দুই বছরে পাসের হার কমেছে ২৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ পয়েন্ট। ধারাবাহিক এই পতন শিক্ষা ব্যবস্থার মান, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং শিকাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ; ছাত্রীদের ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। উত্তীর্ণ ছাত্রের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন এবার।

এবার ২০৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি; গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২০২টি। এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০২টি।

জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমছে: ২০২৪ সালে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন পেলেন; এবার ৪০ হাজার ৮৪ জন। দুই বছরে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারীর সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ৫ হাজার ৮২৭ জন।

এর আগে ২০২৫ সালের ফল বিপর্যয়ের পর শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা শিক্ষাঙ্গনের অস্থির পরিবেশ, শিক্ষক সংকট, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, শিকায় বিনিয়োগের ঘাটতি এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় দুর্বলতাকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন; এবারও একই চিত্র অব্যাহত থাকায় সেসব সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ কতটা কার্যকর—এ প্রশ্ন সামনে এসেছে।

অন্য খবর: ইংরেজি ও তথ্য-প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে এবার ফেল করেছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২১ জন শিক্ষার্থী (চ্যানেল ২৪ অনুসারে); এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বলেও জানা যায় (চ্যানেল ২৪ অনুসারে)।