অধিবেশনের সময়সূচি ও কার্যক্রম

সাংসদীয় চতুর্থ অধিবেশন সোমবার বিকাল ৪:২০টায় শুরু হবে এবং ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে, শুক্রবার ও শনিবার ছাড়া প্রতিদিন বসবে, বলে ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে।

অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রবিবার জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে সংসদীয় ব্যবসা উপদেষ্টা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এবং প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হোম মন্ত্রী সালাহুদ্দিন আহমদ, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান, বিএনপির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য গয়সওয়ার চন্দ্র রায়, জামাত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ছিলেন।

বিল, অধ্যাদেশ ও প্রশ্নোত্তর

অধিবেশনে এখন পর্যন্ত একটি সরকারী বিল সংসদে উপস্থাপনের জন্য পাওয়া গেছে।

তিনটি অধ্যাদেশ – পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬; মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬; এবং বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬ – অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে সংসদে উপস্থাপিত হবে।

মোট ৩,৭৫১টি প্রশ্ন জমা পড়েছে, যার মধ্যে ১৭৪টি প্রধানমন্ত্রী ও ৩,৫৭৭টি অন্যান্য মন্ত্রীকে করা হয়েছে।

৭১ ধারার অধীনে ৯২টি নোটিশ ও ১৩১ ধারার অধীনে ২৮১টি নোটিশও জমা পড়েছে।

ধূমপানমুক্ত এলাকা ও সৌরবিদ্যুৎ

প্রধানমন্ত্রী তরিক রহমান জাতীয় সংসদ ভবনকে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করার প্রস্তাব দিয়েছেন, যা কমিটির সদস্যরা একমত হয়ে গ্রহণ করেন।

সাউন্ড সিস্টেমের উন্নয়ন নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সংসদ সচিব গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া জানিয়েছেন যে সিস্টেমটি সোমবার বিকাল ৩:৩০টায় উদ্বোধন হবে।

সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের অগ্রগতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জানিয়েছেন যে প্রস্তাবিত সৌর ব্যবস্থা ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, যা সংসদের ৬ মেগাওয়াট চাহিদা পূরণ করবে এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে সিস্টেমে বিদ্যুৎ সঞ্চয় সুবিধা থাকতে হবে।

অধিবেশনের পটভূমি

প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৪ অক্টোবর সংবিধানের ৭২(১) ধারার অধীনে অধিবেশন আহ্বান করেন।

পূর্ববর্তী অধিবেশনগুলো ১০ সেপ্টেম্বর (তৃতীয়) ও ১৫ জুলাই (দ্বিতীয়) তারিখে যথাক্রমে ৯ ও ২৭ কার্যদিবস পর prorogued হয়।

বাজেট অধিবেশনে সংসদ ৯৩৮,০০০ কোটি টাকার ২০২৬‑২৭ অর্থবছরের বাজেট পাস করে, যা বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট।

প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু হয়, যা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সাধারণ নির্বাচনের পর। সেই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস হয়, যার মধ্যে ৯১টি ইন্টারিম সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে ছিল।

বিরোধী মতামত

জনকণ্ঠের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিবেশন ৯ নভেম্বর বিকেল ৩:৩০টায় শুরু হবে এবং ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে, যা ঢাকা ট্রিবিউনের ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই তথ্যের সাথে ভিন্ন।

জনকণ্ঠে বলা হয়েছে অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে এবং পাঁচ থেকে ছয়টি বিল উত্থাপিত হতে পারে, যেখানে ঢাকা ট্রিবিউন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত একটি সরকারী বিল উপস্থাপিত হয়েছে।