শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান শ্রম অসন্তোষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাজীপুরে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলার চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে বিজিবির প্লাটুন সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।
রবিবার (১ নভেম্বর) সকালে গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও সফিপুর এলাকায় ইতিমধ্যে বিজিবি সদসরা পৌঁছেছেন। শিল্প পুলিশকে সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সড়ক অবরোধের ঘটনা ঠেকাতেই বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাননি তিনি।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরে শ্রম অসন্তোষ দেখা দেয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। কোনাবাড়ি থেকে চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ পর্যন্ত অন্তত ২০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়; শ্রমিকরা পুলিশের গাড়িসহ অন্তত ১৫টি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বিজিবি জানায়, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই মোতায়েন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে সৃষ্ট অসন্তোষ যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য গাজীপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২ এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, বেতন ভাতা বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অধিকাংশ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কের প্রতিটি পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।






