সমকাল অনুসারে, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট ও শিক্ষার মান সংক্রান্ত সমস্যার ফলে বিক্ষোভের ঢেউ দেখা দিয়েছে। ফ্রান্সে গত শনিবারের প্রতিবাদে পুলিশ ১,৩১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ৫৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ওই রাতে ৭৫টি অগ্নিকাণ্ড এবং ২৪টি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

ফ্রান্সের টুলুজে ২০ বছর বয়সী এক যুবকের হাতে বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি আঙুল উড়ে গেছে; ক্লেরমঁ‑ফেরঁ ও পোয়াতিয়েতে অন্য ব্যক্তির আঘাতের রিপোর্টও পাওয়া গেছে, যদিও এই আঘাতগুলোতে স্টান গ্রেনেড বা কাঁদানে গ্যাস ব্যবহৃত হয়েছিল কিনা নিশ্চিত করা যায়নি। সমকাল উল্লেখ করেছে যে, বিভিন্ন প্রতিবাদী গোষ্ঠী ও শ্রমিক ইউনিয়ন আগামী শনিবার আবারও রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে এবং ৫ নভেম্বর দেশব্যাপী ধর্মঘটের পরিকল্পনা করেছে।

স্পেন, ইতালি, পর্তুগাল ও অন্যান্য দেশ

স্পেনের বার্সেলোনায় রাতের বেলায় ১২৮ জন, যার মধ্যে ৭৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক, লুটপাটের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; ২৩টি স্থাপনায় ভাঙচুরের রেকর্ড রয়েছে। স্প্যানিশ পুলিশ প্রধান সিলভিয়া কাতা এটিকে ‘অকারণ সহিংসতা’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে, স্পেনের ২৯ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে।

ইতালিতে রোম ও মিলানে হাজারো মানুষ সরকারবিরোধী স্লোগান সহ প্রতিবাদে অংশ নেয় এবং কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়। আলবেনিয়ার তিরানাতে হাজারো অংশগ্রহণকারী ও পুলিশে সংঘর্ষে কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও আতশবাজি ব্যবহার করা হয়; ৩০০‑এর বেশি ব্যক্তি ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে এবং কয়েক ডজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে একই রকম পরিস্থিতি দেখা যায়, যেখানে গ্যাস, মরিচের গুঁড়ার স্প্রে এবং লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে।

পর্তুগালের লিসবনে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে টেন্ট স্থাপনকারী দলকে পুলিশ ভেঙে ফেলে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়; আহত ও গ্রেপ্তার সংখ্যার সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

চেক প্রজাতন্ত্রে রাতের ভোটে সরকারি গণমাধ্যমের অর্থায়ন সংক্রান্ত বিলের প্রাথমিক অনুমোদনের পর প্রাগের রাজপথে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। আইনটি গৃহস্থালি ফি ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে টেলিভিশন ও রেডিওকে রাষ্ট্রবাজেটের আওতায় আনতে চায়; প্রধানমন্ত্রী বাবিস এটিকে স্বচ্ছতার বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন। বিলটি এখন সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনায় রয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন অনুসারে, ফ্রান্সে নিরাপত্তা অভিযান সত্ত্বেও বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো রোববারের পরবর্তী শনিবার আবার রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে এবং ৫ নভেম্বরের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে; এই তথ্য রায়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।