ইনকিলাবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ৩০ অক্টোবর শুক্রবার কুমিল্লা লালমাই উপজেলার ভূশ্চি বাজারে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালি পথে দুইটি বিএনপি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ ঘটেছে। প্রথমে হরিশ্চরে র্যালির পথে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলমগীরের ওপর অতর্কিত হামলা হয়, যার ফলে মনিরুল হক চৌধুরী ও মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

র্যালি শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে আবার ভূশ্চি বাজারে দ্বিতীয়বার সংঘর্ষে আলমগীর, যুবদল নেতা মামুন ও সাদ্দাম, এবং মনিরুল হক চৌধুরীর সমর্থিত বিএনপি নেতা ফরহাদ উদ্দিন ও যুবদল নেতা তামিম ইকবাল গুরুতরভাবে আহত হন। ইনকিলাব অনুসারে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।

ঢাকা পোস্ট ও সমকাল একই ঘটনার রিপোর্টে আহতের সংখ্যা দশজন (দুইজন পথচারীসহ) বলে। উভয় প্রতিবেদনে ফরহাদ উদ্দিনের পাশাপাশি শামীম ইকবাল (তামিম ইকবালের পরিবর্তে) এবং যুবদল কর্মী মামুন ও সাদ্দাম হোসেনকে আহত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও তারা ধাওয়া‑পাল্টা, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানায়।

প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোজাম্মেল ফেসবুকে লাইভে অভিযোগ প্রকাশ করেন যে তিনি দীর্ঘদিন মনিরুল হক চৌধুরীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বহু মামলার আসামি হয়েছেন এবং আলম ভূঁইয়ার সমর্থক নেতাদের কারণে এলাকায় দলীয় কোন্দল তৈরি হয়েছে। যুবদল নেতা মাকসুদুর রহমান মাকসুদও আলমগীরের ফেসবুক পোস্টকে উস্কানিমূলক বলে উল্লেখ করেন এবং ঘটনাটির মীমাংসা করার চেষ্টা করা সত্ত্বেও পুনরায় সংঘর্ষে রূপ নেয়ার কথা জানান। সমকাল ও ঢাকা পোস্টে বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী মীর পিন্টু সামাজিক মিডিয়ায় অপপ্রচার নিয়ে প্রশ্ন তোলার কথা উল্লেখ করেছেন।

লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখযোগ্য যে, আহতের সঠিক সংখ্যা এবং আহতদের নাম (তামিম ইকবাল বনাম শামীম ইকবাল) সম্পর্কে ইনকিলাব ও অন্যান্য দুই সূত্রের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন।