ঢাকা পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ) আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে ‘সময়োপযোগী আহ্বান’ হিসেবে স্বীকার করেছে। সংগঠনটি বলেছে, আইজিপির বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিবৃতি ও তার প্রেক্ষাপট
বিপিএসএর সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে, ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) আইজিপির মন্তব্যের মূল তাৎপর্যকে আইন‑বিধির যথাযথ বাস্তবায়ন, জননিরাপত্তা রক্ষা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস নিশ্চিত করার আহ্বান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইজিপি এই মন্তব্যটি ২৬ অক্টোবর (সোমবার) পুরনো ঢাকার চকবাজারে একটি কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দিয়েছিলেন। তার কথায় ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন, সরকার অনুমতি দিলে আমরা সেটাই করব’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন প্রতিবাদ জানায়।
আইন‑বিধি ও পুলিশের দায়িত্ব
বিপিএসএ জোর দিয়ে বলেছে যে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বদা সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে কাজ করে। উল্লেখিত আইনের মধ্যে রয়েছে দণ্ডবিধি (১৮৬০), ফৌজদারি কার্যবিধি (১৮৯৮), পুলিশ আইন (১৮৬১) এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল। এই বিধানগুলোর সঠিক প্রয়োগের পাশাপাশি মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার পরিসংখ্যান
বিপিএসএর বিবৃতিতে ২০২৬ সালের প্রথম দশ মাসে পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৪জন সদস্য নিহত এবং ৩৭০জন গুরুতর আহত হয়েছে। এই তথ্যটি একইভাবে ঢাকা টাইমস, ইনকিলাব এবং ইত্তেফাকের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে যে, পুলিশকে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার যেখানে তারা আইন ও বিধিবিধানের অধীনে, ‘রাইট টু প্রাইভেট ডিফেন্স’ সহ, নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
বিবাদ ও পরবর্তী দৃষ্টিভঙ্গি
বিবৃতিতে আইজিপির মন্তব্যকে আইন‑বিধির আলোকে ব্যাখ্যা করা হলেও, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ, প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের আইনি সীমা এবং জবাবদিহি প্রশ্নও উত্থাপিত হয়েছে। এই বিষয়গুলো বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই তথ্যগুলো ঢাকা পোস্টের অনুসারে এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের একই ঘটনায় সমর্থিত রিপোর্টের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।






