ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) রাজশাহী কার্যালয়ে পিন্টু হত্যার মামলায় তিনজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়বস্তু হল দুইজন আসামি ও একজন সাক্ষী। জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের তৎকালীন উপকারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) বজলুর রশীদ, সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম এবং কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুন।

পিন্টু, যিনি ৩ মে ২০১৫-এ রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা যান, তখন তিনি পিলখানা বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। তার মৃত্যুর প্রায় দশ বছর পর, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এ তার ছোট ভাই নাসিম উদ্দিন রিন্টু রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতে হত্যাকাণ্ডের মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয় এবং আদালত তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে অর্পণ করে।

অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন

বার্তা২৪ একই ঘটনা সম্পর্কে জানিয়েছে যে, পিবিআই পিন্টু হত্যার মামলায় দুই আসামি ও এক সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, যা ইত্তেফাকের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

অন্যদিকে, আজকের পত্রিকা চট্টগ্রামে একটি পৃথক ঘটনায়, বিএনপি নেতা মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে রূপালী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রতারণা মামলায় ১ বছর ৪ মাসের কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপের তথ্য প্রকাশ করেছে। এই ঘটনা পিন্টু হত্যার মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তবে একই রাজনৈতিক দলের নেতার ওপর আরেকটি আইনি প্রক্রিয়া নির্দেশ করে।

চ্যানেল ২৪ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৬ অক্টোবর সোমবার ঢাকার মেহেদীবাগ এলাকায় তিনজন বিএনপি নেতা চাঁদাবাজির প্রতিবাদে আহত হয়েছেন। এই হামলা পিন্টু হত্যার মামলায় পিবিআই জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে ভিন্ন বিষয়।

ইত্তেফাকের সূত্রে মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আকতার কল্পনা উচ্চ আদালতে সাজা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত আপিল করেছেন এবং আদালত পিন্টুকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ আই হসপিটালে চিকিৎসা করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে, তার অভিযোগে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ এবং পরে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া, ২ মে ২০১৫-এ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. রইছ উদ্দিনের নিরাপত্তা অজুহাতে পিন্টুর চিকিৎসা না করা হয় এবং পরের দিনই তার মৃত্যু ঘটে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল মালেক রানা উল্লেখ করেছেন যে, আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে, তবে তিনি তিন কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন না।