ইনডিপেনডেন্ট টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যশোরের বেনাপোলের শিক্ষার্থী আফিয়া মাসুমা জিপিএ–৪ (এ গ্রেড) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি যশোরের শার্শা উপজেলার শার্শা উপজেলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এই পরীক্ষায় অংশ নেন। অন্যদিকে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে তাঁর নাম আফিয়া খাতুন মাসুমা উল্লেখ করা হয়েছে।
ইনডিপেনডেন্ট টিভির খবরে জানানো হয়, আফিয়া বেনাপোল পোর্ট থানার নামাজ গ্রামের প্রয়াত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক আব্দুস সামাদের ছোট মেয়ে। গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় আব্দুস সামাদ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পরেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের ধারণা, তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যান। মৃত্যুর পর ওই রাতেই তাঁর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
পরদিন সকালে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই বেনাপোল কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যান আফিয়া। আফিয়াকে শেষবার দেখার সুযোগ করে দিতে স্বজনেরা দাফনের সময় পিছিয়ে দেন। পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে তিনি বাবার দাফনে অংশ নেন এবং পরে শোক নিয়েই বাকি সব পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
ফলাফল প্রকাশের পর আফিয়া জানান, পরীক্ষা দেওয়ার সময় বারবার তাঁর বাবার মুখ ভেসে উঠছিল। বাবা বেঁচে থাকলে এই ফলাফলে খুশি হতেন উল্লেখ করে তিনি উচ্চশিক্ষা অর্জনে সবার কাছে দোয়া চান।
শার্শা উপজেলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাসানউজ্জামান ইনডিপেনডেন্ট টিভিকে বলেন, আফিয়া অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। স্বজন হারানোর কঠিন শোকের মধ্যেও পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এমন ফল অর্জন তাঁর মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেয়। শার্শা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, আফিয়ার উচ্চশিক্ষায় পরিবারের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার চেষ্টা করা হবে।






