প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরগুনা জেলার পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর অব্যাহত ভাঙনের কারণে জেলার প্রায় ৮০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৭২ দশমিক ৫০৩ কিলোমিটার বাঁধ বর্তমানে ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরগুনা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর ফলে বাঁধের আশপাশে বসবাসকারী ৩০ হাজার পরিবারের লাখো মানুষ ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
জেলার ছয় উপজেলার মধ্যে বরগুনা সদরে সর্বোচ্চ ২৬.৯৪৯ কিলোমিটার, পাথরঘাটায় ১৮.৫৫৯ কিলোমিটার, বেতাগীতে ১১.১৬৬ কিলোমিটার, আমতলীতে ৫ কিলোমিটার, তালতলীতে ৩.৫ কিলোমিটার ও বামনায় ৭.৩২৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে। প্রথম আলো গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে বামনা, বেতাগী ও পাথরঘাটা উপজেলায় সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেছে।
বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ী ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি এলাকায় গত ছয় মাসে ৫০টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে। গত এক বছরে এ এলাকায় শতাধিক পরিবার বসতবাড়ি হারিয়েছে। ৮৮ বছরের পুরোনো কালিকাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও বিষখালী নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে, যার রক্ষার জন্য জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ বিষখালী নদীতে চলে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাজু মিয়ার ১৬ একর জমি ও বসতবাড়ি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে विलীন হয়েছে। ২০০৭ সালের সিডর ঘূর্ণিঝড়ে বলেশ্বর নদের তীরবর্তী বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর প্রায় দুই দশকেও সেখানে টেকসই বাঁধ নির্মাণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন।
পাউবোর বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান প্রধান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের প্রতি কিলোমিটারে টেকসই ব্লকবাঁধ নির্মাণের জন্য ৯০ কোটি টাকা প্রয়োজন। সেই হিসাব থেকে ৭২ কিলোমিটার ব্লকবাঁধ নির্মাণে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা এবং জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। ভাঙনকবলিত স্থানে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে এবং জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক ফেলে তীর সুরক্ষার কাজের জন্য ঢাকায় প্রস্তাব পাঠানো হবে।






