বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর দুটি আলাদা কক্ষ থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। ঋণের বোঝা ও আর্থিক টানাপোড়েন থেকে সৃষ্ট মানসিক হতাশা সইতে না পেরে দুই মেয়েকে হত্যার পর মা নিজে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঢাকা পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মুকিত হাসান খাঁন জানান, নিহত ইতি রানী (৩৪) এবং তার পরিবার বিভিন্ন এনজিও ও ব্যক্তির কাছে ৪ লাখ টাকারও বেশি ঋণে জর্জরিত ছিলেন। দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলা ট্রিবিউন ও ডেইলি অবজারভারের প্রতিবেদনেও পুলিশের বরাত দিয়ে ঋণের চাপের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে বরগুনা পৌরসভার কড়ইতলা এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দর্জি দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে ইতি রানীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আরাধ্যা বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাস (৩) নামের দুই মেয়ে ছিল। সংসারের টানাপোড়েন ঘোচাতে ইতি রানী পাঁচটি এনজিও থেকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৭২৩ টাকা এবং তার স্বামী একটি এনজিও ও দুজন ব্যক্তির কাছ থেকে আরও ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নেন। সব মিলিয়ে তাদের ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ লাখ ৭ হাজার ৭২৩ টাকা।
পুলিশ জানায়, নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলেও ঋণের পুরো অর্থ শোধ করা নিয়ে ইতি রানী মারাত্মক মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন। স্বামীকে সহায়তার উদ্দেশ্যে ঘটনার দুই মাস আগে তিনি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি নেন। এরপর গত ৩ জুন বেলা ১১টার দিকে দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি কর্মস্থলে যান। দুপুরে ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার একটি কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ দেখে অন্য কর্মীরা পুলিশকে খবর দিলে একটি কক্ষ থেকে বড় মেয়ে এবং বন্ধ কক্ষ থেকে ইতি রানী ও ছোট মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর গত ৯ জুন নিহতের স্বামী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় মামলা করেন। পুলিশ কর্মকর্তা মুকিত হাসান খাঁন জানান, ইতি রানীর স্বামীর নিজস্ব কোনো জমি নেই এবং তীব্র আর্থিক অসচ্ছলতা থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন এবং শিগগিরই আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।






