বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ তাঁর সঙ্গে থাকা এক নারীকে খুঁজছে।
সমকাল অনুযায়ী, পুলিশ তাহসিফের মোবাইল ফোন বন্ধ হওয়ার আগের সাত ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং দীপের বক্তব্য যাচাই করছেন। ঘটনার দিন তাহসিফ ও দীপ উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের জমজম টাওয়ারের কাছে নেস্ট রেস্তোরাঁ অ্যান্ড বারে গিয়েছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাদের সঙ্গে এক নারীকে দেখা যায়। ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান। তাঁর পেছনে আরেকটি মোটরসাইকেলে ছিলেন দীপ। তাহসিফের মোটরসাইকেলে এক নারীও ছিলেন। তিনি নেমে ভবনের ফুটপাতে দাঁড়ান। তাঁর হাতে একটি সাদা ব্যাগ দেখা যায়। পরে তাহসিফ ওই নারীকে নিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। ওই নারীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফ বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তাঁর অবস্থান ও চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। তবে ওই এলাকায় যাওয়ার পর কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দীপের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট-সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। পরে তাঁকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাহসিফের বাবার করা হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আদালতে দীপের শুনানি চলাকালীন পুলিশ তার বিরুদ্ধে তথ্য গোপন, অপরাধের আলামত নষ্ট করা বা অপরাধীকে শাস্তি থেকে বাঁচানোর অভিযোগ করে। তবে তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং তিনি প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে সহযোগিতা করছেন। আদালত তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। রিমান্ড আদেশ হওয়ার পর দীপ বলেছেন, ‘আমি ফুললি স্ট্রং’।
অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের কল্যাণ সংস্থা রাওয়া এবং মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এইচআরএসএস বিশেষ করে পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিদের ধাওয়ার বিষয়ে দীপের বক্তব্য ও পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।






