আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার গহিন পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের সাথে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর গোলাগুলিতে সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ নিহত হয়েছেন। তিনি ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের আফজাল হোসেনের ছেলে।

শুক্রবার সকালে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ রামু সেনানিবাসে আনা হয়েছে। আসরের নামাজের পর সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মরদেহ গ্রামে পাঠানো হচ্ছে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুরে পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানের সময় গুলিতে ৫৬ জন জিম্মি উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন দালাল ছিলেন। এছাড়া অস্ত্রসহ ছয় মানবপাচারকারীও আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে এবং আদালতের মাধ্যমে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উদ্ধার হওয়া ফরিদপুরের আসাদুজ্জামান বলেন, আট দিন ধরে পাহাড়ের একটি ঝুপড়িতে বন্দি রেখে ৪০-৫০ সশস্ত্র পাহারাদার তার নিরীক্ষা করত। কক্সবাজারের ব্রিজে চাকরির সুবাদে রোহিঙ্গা ইমামুলের মাধ্যমে তাকে পাহাড়ে আনা হয়েছিল। দুইবার পালানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি।

উখিয়ার সেবতখালীর মো. সাইফুল ও মিজানুর রহমান সাগর জানান, দালাল নূরালী তাদের মানবপাচারকারীদের হাতে বিক্রি করেছিল। পাঁচ দিন ধরে তাদের লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো এবং দিনে দুবার কাঁচা কদু-ডাল খাবার দেওয়া হতো। বৃহস্পতিবার ট্রলারে চড়িয়ে সমুদ্রপথে পাচারের পরিকল্পনা ছিল, তभी যৌথ বাহিনী উদ্ধার করে।

হ্নীলার স্থানীয় বাসিন্দা নুর আলম এবং হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী পাহাড়ে সাঁড়াশি অভিযানের দাবি করেছেন। টেকনাফ ইউএনও এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সশস্ত্র পাচারকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছে এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান অব্যাহত ছিল।