রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র অবরোধের পর জেলা প্রশাসন অনির্দিষ্টকালীন বন্ধের আদেশ জারি করেছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালীন অবরোধ শুরু করে, যা বিকেলে আলোচনা শেষে প্রত্যাহার করা হয়। তবে অবরোধ সরিয়ে নেওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন ভ্যালি বন্ধের ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অনিবার্য কারণবশত’ ভ্যালি বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে কোন নির্দিষ্ট কারণের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। খাগড়াছড়ির বিএনপি সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

অবরোধ আহ্বানকারী সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জেসিএসের সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন অংশ সশস্ত্র তৎপরতা ও চাঁদাবাজি চালু করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি সৃষ্টি করেছে। তারা ৪৮ ঘণ্টার জন্য আন্দোলন শিথিল করার শর্তে প্রশাসন থেকে আশ্বাস চেয়েছিল, তবে সেই আশ্বাসের বিষয়বস্তু প্রকাশিত হয়নি।

সংসদ সদস্যের মতে, অবরোধ চলতে থাকলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে; অবরোধকারীরা খাবার গ্রহণ বন্ধ করলেও পরে নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্যোগে খাবার সরবরাহ করা হয়।

রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন জানিয়েছেন, সাজেক ভ্যালিতে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ই অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে নিরাপদে গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জানান, সকালেই প্রায় এক হাজার পর্যটক ছিল, তবে বিকেলের মধ্যে ভ্যালি পর্যটকশূন্য হয়ে যাবে। তিনি অতীতের বন্ধের সময়কাল (২‑১৫ দিন) ও ইউপিডিএফ‑জেসিএসের দ্বন্দ্বকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজেক দীর্ঘদিন ধরে ইউপিডিএফের প্রভাবাধীন এলাকা, আর জেসিএসের উপস্থিতি কম। পর্যটন ব্যবসা থেকে রিসোর্টগুলো মাসে ৫০,০০০‑১,০০,০০০ টাকা চাঁদা আদায় করে, যা দলগুলোর মধ্যে বিরোধের মূল কারণ হতে পারে।

এই তথ্যগুলো BBC বাংলা অনুসারে সংগ্রহ করা হয়েছে।