ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের উদ্যোগে বড় ধরনের প্রতিবাদ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইত্তেফাক এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধীসহ শীর্ষ নেতাদের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আরজেডি এবং বামপন্থীরা অংশ নেয়। আন্দোলনকে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ২০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং জালিয়াতি চলছে। অন্যদিকে ইনকিলাবের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংখ্যাটি প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটারের সমান। ইনকিলাবের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ৫০ থেকে ৭৫ হাজার মানুষের সমাগম ঘটে এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী নরেন্দ্র মোদি সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রামলীলা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় ১০ হাজার পুলিশ, সিআরপিএফ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয় বলে ইত্তেফাক জানিয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০০ থেকে ২৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়।
বিরোধী জোটের এই আন্দোলনকে ‘মেলোড্রামা’ ও ‘বোকামি’ আখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা একে নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে, ১৯৮৪ সালের শিখবিদ্বেষী দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণে পশ্চিম দিল্লিতে পৃথক পদযাত্রা ও কর্মসূচি পালন করেছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। এতে অংশ নিয়ে হরদীপ সিং পুরী ও রেখা গুপ্তাসহ অন্যান্য নেতারা কংগ্রেসকে নিশানা করেন।
এদিকে উৎসবের মৌসুমে এই রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে দিল্লির পাইকারি বাজারে ব্যবসা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ীদের এই উদ্বেগ প্রত্যাখ্যান করে রাহুল গান্ধী প্রতিবাদ ও সমাবেശ করার পাশাপাশি কেনাকাটাও চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে ইত্তেফাক জানিয়েছে।






