পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরের উত্তর‑পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেশোয়ারের দির কলোনিতে অবস্থিত আল-খায়ার স্কুল সিস্টেমের একটি জীর্ণ দুইতলা ভবনের ছাদ ধসে পড়ে একটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে। একাত্তর টিভি অনুসারে, ছাদ ধসে তিনটি শ্রেণিকক্ষের ওপর পড়ে, ফলে পুরো ভবন ধ্বংসস্তূপে রূপান্তরিত হয়।

দুর্ঘটনার সময় ওই কক্ষগুলোতে অন্তত ১১০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২৮টি নিষ্পাপ শিশু ও ২জন শিক্ষিক (মোট ৩০ জন) প্রাণ হারিয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীরা কংক্রিটের নিচ থেকে রক্তাপ্লুত শিশুরা বের করে আনার চেষ্টা করেন। জরুরি দল, অ্যাম্বুলেন্স এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়; শহরের সরু গলির কারণে প্রাথমিকভাবে গাড়ি ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করা কঠিন হয়। পরবর্তীতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়।

দুর্ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তত ৪০ জন শিশু ও শিক্ষককে লেডি রিডিং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য একটি দল ৩৩ জন আহত শিশু ও এক শিশুর মরদেহ নাসিরুল্লাহ বাবর মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায়। লেডি রিডিং হাসপাতালের মুখপাত্র মোহাম্মদ আসিম জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে ১৭টি শিশু মারা যায়। অধিকাংশ শিকাগুলোর বয়স ১৩ বছর বা তার কম।

পেশোয়ার ক্যাপিটাল সিটি পুলিশ অফিসার ড. মিয়া সাইদ জানান, স্কুল ভবনটি দুর্বল ভিত্তি ও অতিরিক্ত নির্মাণের ওজন সহ্য করতে না পেরে ছাদ ধসে পড়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ ইতিমধ্যে স্কুলের মালিককে হেফাজতে নিয়েছে এবং অবহেলার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

দেশের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং খাইবার পাখতুনখওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রতি শোক প্রকাশ করে, শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।