সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বর্ষামৌসুম অবসান পাওয়ার পরও পদ্মা নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীপারের একাধিক ইউনিয়নে বসতভিটা, ফসলি জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো নদীতে বিলীন হচ্ছে।

বাসিন্দাদের করুণ কাহিনী

বেপারীডাঙ্গী গ্রামের ৯০ বছরের হাসমত বেপারী জীবনে আটবার ঘর বানালেও স্থায়ী হতে পারেননি। সব বাড়ি পদ্মা গিলে নিল। বয়স্ক বয়সে তিনি পরিবারসহ ভাড়ার বাসায় আশ্রয় নেওয়া বাধ্য হয়েছেন। তাঁর মতো অসংখ্য পরিবার বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে।

সর্বাধিক প্রভাবিত এলাকা

ঢেউখালী ইউনিয়নের শয়তানখালী, বেপারীডাঙ্গী, মুন্সিরচর এবং আকোটেরচর ইউনিয়নের ছলেনামা, খালিখোলা, মোল্যাকান্দা, খালাসীগ্রামসহ দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের নুরুদ্দীন সরদার কান্দি, আব্দুল হামিদ জঙ্গির কান্দি, আলেফ সরদার কান্দি ও জব্বার শিকদার কান্দিতে ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, আকোট জনসংঘ উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিঁয়াজখালী বাজার, সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামও নদীতে বিলীন হতে পারে।

ভাঙনের পরিমাণ

শয়তানখালী ঘাটের ব্যবসায়ী বাবুল ব্যাপারী জানিয়েছেন, গত এক মাসে প্রায় ১৫০ মিটার এবং চলতি বছরে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। বাসিন্দারা ঘরের আসবাব, গবাদিপশু সরিয়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছেন।

কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে অবহিত করেছেন। ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানিয়েছেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চলছে এবং খুব শীঘ্রই টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলা হয়েছে এবং শীঘ্রই স্থায়ী নদীশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।