সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামি শুক্রবার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন। ১৩ বছরের আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘোষণা করার সময় তিনি ভারাক্রান্ত হৃদয় ও অসংখ্য স্মৃতির কথা উল্লেখ করেছেন।
৩৪ বছরের এই ডানহাতের বোলার ভারতের পক্ষে ৬৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ২৭.৭১ গড়ে ২২৯ উইকেট নিতে পেরেছেন। তিনি ছয়বার পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে তার সর্বশেষ উপস্থিতি ২০২৩ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে লন্ডনের ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ছিল।
শামির টেস্ট অভিষেক ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হয়েছিল। প্রথম ম্যাচেই তিনি দুই ইনিংস মিলিয়ে ১১৮ রানে ৯ উইকেট নিয়ে নিজের সামর্থ্য প্রদর্শন করেছিলেন, যা এখনও তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
উপমহাদেশের কন্ডিশনে রিভার্স সুইংয়ে দক্ষতার পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও তিনি ভারতের বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসামান পেসার হিসেবে উভরেছিলেন। তার ছয়টি পাঁচ উইকেট শিকারের মধ্যে চারটি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এসেছে।
ক্যারিয়ার 내내 চোটের সাথে লড়াই করেও শামি ২০২৩ সালের একদিন বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন। তবে বিশ্বকাপের পর গোড়ালিতে অস্ত্রোপচার এবং হাঁটুর সমস্যা তাকে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে রেখেছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকের মাধ্যমে তিনি ফিরে এলেন এবং চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলেও জায়গা পেলেন। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালের পর থেকে তিনি ভারতের হয়ে আর কোনো ফরম্যাটে খেলেননি। তবে আইপিএল ও ঘরোয়া ক্রিকেটে তিনি এখনও সক্রিয়। চলতি মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিতে তিনটি ম্যাচ এবং সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফির দলেও তিনি অন্তর্ভুক্ত।
২২৯ উইকেটের সাথে শামি ভারতের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় ১২তম স্থানে এবং পেসারদের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে রইছেন।
অবসরের বার্তায় তিনি লিখেছেন, «সাদা পোশাককে বিদায় জানাচ্ছি, তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলোকে নয়। প্রথমবার ভারতের টেস্ট জার্সি গায়ে তোলার সময় আমার একটাই স্বপ্ন ছিল, দেশের জন্য কিছু করা। এরপর প্রতিটি উইকেট, প্রতিটি লড়াই, চোট এবং প্রতিটি প্রত্যাবর্তন আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটি সংস্করণ নয়, জীবনের খুব বিশেষ একটি অংশ। ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আজ এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। টেস্টে শেষ বলটি করে ফেললেও হৃদয়ে সব সময় ভারতের হয়ে খেলার গর্ব বয়ে বেড়াব। ধন্যবাদ, টেস্ট ক্রিকেট।»





