ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রকাশিত 'এশিয়া-প্যাসিফিক ক্লাইমেট রিপোর্ট ২০২৬'-এ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৩৩ লক্ষ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হতে পারে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় প্লাবন, সুপেয় পানির সংকট ও কৃষি খাতের বিপর্যয় লক্ষ লক্ষ দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকাকে অনিশ্চিততার মুখে ফেলেছে।

বাংলাদেশ যদিও ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও প্রাথমিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থায় জানমাল রক্ষায় সাফল্য অর্জন করেছে, তবে শুধু আশ্রয়কেন্দ্র দিয়ে আসন্ন মহাবিপর্যয় মোকাবিলা সম্ভব নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এডিবি ত্রিস্তরীয় পরিকল্পনা সুপারিশ করেছে: স্বল্পমেয়াদি (১-৩ বছর) উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিতকরণ, আশ্রয়কেন্দ্র আধুনিকীকরণ, লবণাক্ত পানি শোধনাগার স্থাপন ও সতর্কবার্তা ব্যবস্থা দ্রুতকরণ; মধ্যমেয়াদি (৩-১০ বছর) ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণ, জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তি প্রসার, বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা; দীর্ঘমেয়াদি (১০-৩০/৫০ বছর) জলবায়ু অভিবাসন নীতি, মেগা নগরায়ন, ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ।

প্রকৃতির সাথে সহাবস্থান ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনায় ক্ষতির পরিমাণ কমাতে পারা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।