বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ সাড়ে তিনশো বছর বিত্তেও অসমাপ্ত রয়েছে। বিবিসি বাংলার রিপোর্ট অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের পুত্র যুবরাজ মুহাম্মদ আযম ১৬৭৮ সালে বুড়িগঙ্গার তীরে এই দুর্গের নির্মাণ শুরু করেন এবং তার নাম রাখেন 'কিল্লা আওরঙ্গবাদ'।

নির্মাণ বন্ধ হওয়ার কারণ

ইতিহাসবিদরা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, যুবরাজ আযমকে সম্রাট আওরঙ্গজেব দিল্লি ডেকে ফিরিয়ে নেন। তার পর শায়েস্তা খান দ্বিতীয়বার বাংলার সুবেদার হয়ে আসেন, কিন্তু তিনি দুর্গের নির্মাণ এগিয়ে নেননি। এর পেছনে ইতিহাসবিদরা ভিন্ন মতামত দিয়েছেন। অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও অন্যদের মতে শায়েস্তা খানের কন্যা পরীবিবির (ইরান দুখত) ১৬৮৪ সালে অকালমৃত্যু হলে শায়েস্তা খান দুর্গকে অশুভ মনে করে নির্মাণ বন্ধ করেন। অন্যদিকে অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী মনে করেন শায়েস্তা খানের ব্যক্তিগত অপছন্দই মূল কারণ।

পরবর্তী ইতিহাস

মুঘল আমল অবসানের পর দুর্গটি অবহেলিত হয়ে পড়ে। ব্রিটিশ আমলে এটি সেনা ও পুলিশ ব্যারাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৮৪৪ সালে ঢাকা কমিটির উদ্যোগে দুর্গের উন্নয়ন শুরু হয় এবং এর নাম 'লালবাগ দুর্গ' পড়ে। ১৯১০ সালে এটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে সংরক্ষিত স্মারক হিসেবে ঘোষিত হয়। গত শতকের শেষ দশকে এটি সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

বর্তমানে কেল্লার মধ্যে পরীবিবির সমাধি, লালবাগ মসজিদ, হাম্মামখানা, দরবার হল, দক্ষিণ ফটক ও প্রাচীর-বুরুজ প্রধান স্থাপনা। গবেষকরা এটিকে মুঘল আমলে ঢাকার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের অন্যতম স্মারক হিসেবে বিবেচনা করেন।